হাজার হাজার অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত – আ. লীগে শুদ্ধি অভিযান শুরু
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০২ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:০৭
এবার শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগে। এরই মধ্যে বিশেষ গোয়েন্দা বাহিনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগে হাজার হাজার অনুপ্রবেশকারী চিহ্নি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই তালিকা তৈরি করেছেন। তারা ভবিষ্যতে দলের কোথাও কোনো পদে যাতে আসতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দলের হাইকমান্ডের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন দলে অনুপ্রবেশকারী দেড় হাজার চিহ্নি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (০১ নভেম্বর) ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুরে ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলে অনুপ্রবেশকারীদের একটি তালিকা তৈরি করেছেন। তাতে দেড় হাজার জনের নাম রয়েছে। আগামী সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এসব অনুপ্রবেশকারী তথা বিতর্কিত ও অপকর্মকারী লোকজন যাতে আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের নেতৃত্বে না আসতে সেজন্য তালিকাটি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের পরিচয় তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “সাম্প্রদায়িক শক্তি থেকে যারা আসে, চিহ্নিত চাঁদাবাজ, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, চিহ্নিত ভূমিদস্যু, যাদের ইমেজ খারাপ, যাদের রাজনীতি জনগণের কাছে খারাপ- এরাই অনুপ্রবেশকারী। যারা ভালো মানুষ, শিক্ষিত মানুষ, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য, তারা দলের নেতৃত্বে আসতে পারে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ‘ক্লিন ইমেজের’ লোকও আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী নয়, তাদেরও আমরা স্বাগত জানাই।” সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতে যাতে বিতর্কিতরা স্থান করে নিতে না পারে, সেজন্য এসব ব্যক্তিদের একটি তালিকা করেছে আওয়ামী লীগ।
ক্যাসিনো বন্ধের অভিযানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন নেতা গ্রেপ্তার হওয়া এবং আরও অনেকের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠার পর দলে অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিতদের বিতাড়িত করার দাবি ক্ষমতাসীন দলটিতে জোরেশোরে উঠে। এমন প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তার ‘নিজস্ব কিছু লোকজনের, কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনুপ্রবেশকারীদের এ তালিকা করেছেন বলে আগের ওবায়দুল কাদেরই জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন শাখা ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীরা যেন কমিটিতে আসতে না পারে সেজন্য বিভাগীয় নেতৃবৃন্দকে তালিকা দেওয়া হয়েছে। সফিপুর নির্মানাধীন ফ্লাইওভারের কাজ পরিদর্শনের সময় সড়কমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ঢাকার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারসহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এসময় ওবায়দুল কাদের বলেন, “সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা আমাদের বড় সঙ্কট। সড়ক-মহাসড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য। এটাই আমাদের চ্যালেঞ্জ। সড়ক পরিবহন আইনটাও সেই জন্যই করা হয়েছে। এখন আমরা আঁঁটঘাট বেঁধেই নেমেছি।”
জাবি’র সংকট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবগত : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবগত আছেন। এ কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সময় মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল শুক্রবার (০১ নভেম্বর) বিকেলে সাভারের নবীনগর-চন্দ্রা সড়ক পরিদর্শনকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলের আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার তরফ থেকে দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতাদের তালিকা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কোন বিতর্কিত ব্যক্তি যাতে আওয়ামী লীগের কোনও পর্যায়ের নেতৃত্বে স্থান না পায় সে বিষয়েও তাঁর (শেখ হাসিনার) নির্দেশনা রয়েছে। কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অপর এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন,‘বিএনপি’র নেতাদের এবং মেডিকেল বোর্ডের বক্তব্যের মধ্যে কোন মিল নেই। বিএনপি’র নেতারা বলছেন তিনি (খালেদা জিয়া) ভালো নেই, কিন্তু মেডিকেল বোর্ডের চিকিত্সকরা বলছেন ভালো আছেন। মূলত: দলীয় নেতারা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বা শারীরিক বিষয়ে উদ্বেগের চেয়ে,তাঁর স্বাস্থ্যের কথা বলে রাজনৈতিক ইস্যু খোঁজার চেষ্টা করছেন।’

