সৌদি-ইরান সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত

সৌদি-ইরান সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৬ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৪২

মধ্যপ্রাচ্যের দুই আঞ্চলিক প্রতিদ্বনদ্বী সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। এমন পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির চিফ অব স্টাফ মাহমুদ ওয়ায়েজি। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক দেশগুলো এখন এ কথা উপলব্ধি করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতার বিকল্প নেই।তেহরান থেকে প্রকাশিত দৈনিক এতেমাদ’কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তেহরান-রিয়াদ সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন মাহমুদ ওয়ায়েজি। তিনি বলেন, অতীতে সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ ছিল। কিন্তু মার্কিন সরকারের উসকানিমূলক আচরণের ফলে এ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এখন সৌদি আরবসহ অন্যান্য আরব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিভেদ সৃষ্টির নীতির স্বরূপ উপলব্ধি করতে পেরেছে। আঞ্চলিক দেশগুলো এ কথা বুঝতে পেরেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে মতপার্থক্য ও সংঘাত পরিহার করতে হবে। ইরান বহুদিন ধরে তাদেরকে এ কথাই বুঝিয়ে এসেছে। মাহমুদ ওয়ায়েজি বলেন, সৌদি আরবসহ আরও কিছু দেশ মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিমূলক নীতি ব্যর্থ হবে। ইরানের এই শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানান, তার দেশ সৌদি আরবসহ সবগুলো আঞ্চলিক দেশকে আলোচনায় বসার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ সবগুলো দেশকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় উত্তেজনা প্রশমন ও পারস্পরিক সহযোগিতা শক্তিশালী করা। এর আগে গত অক্টোবরের গোড়ার দিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনার পথে হাঁটছে মধ্যপ্রাচ্যের দুই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব ও ইরান। দুই দেশের পক্ষ থেকেই এ ব্যাপারে ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সৌদি আরব সফর করেন। এ সময় রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে তাকে অনুরোধ করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)। যুবরাজ ইমরান খানকে বলেন, ‘আমি যুদ্ধ এড়াতে চাই।’ নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছেন পাকিস্তানি নেতা।  রিয়াদের পক্ষ থেকে ইরাককেও অনুরোধ করা হয়েছে; তারাও যেন এ ব্যাপারে ইরানি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে। ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের দুই তেল স্থাপনায় হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে রিয়াদ। ওই হামলার পর সৌদি আরবের তেল উত্পাদন অর্ধেকে নেমে আসে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading