চিলিতে বিক্ষোভের মুখে বাড়ছে মজুরি

চিলিতে বিক্ষোভের মুখে বাড়ছে মজুরি

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৯ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:২৮

টানা তিন সপ্তাহের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে চিলির প্রেসিডেন্ট দেশটির ন্যূনতম মজুরি বাড়াতে কংগ্রেসে একটি বিল প্রস্তাত করেছেন। প্রেসিডেন্ট সেবাস্টিয়ান পিনেরা স্বাক্ষরিত প্রস্তাবিত বিলে ন্যূনতম মজুরি মাসে ৪৭০ ডলার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস এখবর জানিয়েছে। লাতিন আমেরিকার ধনী দেশটিতে বৈষম্যের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা সামাজিক সেবার উন্নয়ন ও বৈষম্য অবসানের দাবিতে প্রতিবাদ করছেন। রাজধানীতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। টোলবৃদ্ধির প্রতিবাদে গাড়ির বহর নিয়ে হর্ন বাজিয়ে সড়ক অবরোধ করেও বিক্ষোভ হয়। পতাকা নাড়িয়ে বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল অচল করে দেয়। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, অর্থমন্ত্রী ইগনাসিও ব্রিওনেস কংগ্রেসে যাওয়ার পথে নিজের গাড়ি থেকে নেমে এক ট্রাক চালকের সঙ্গে কথা বলছেন। তিনি ওই ট্রাক চালককে বলেন, আমাদের অনেক সামাজিক দাবি রয়েছে। আপনারা সবাই তা জানেন। সব খাতের মানুষকে কঠিন সময় পার করতে হবে। অনেকেই ভাবছেন হুট করে সবকিছুর সমাধান আমাদের পক্ষে করে ফেলা সম্ভব। কিন্তু ঘরের মতোই যদি সব সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়, তখন কী হবে? গত মাসে একটি সড়কের টোল বৃদ্ধির প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা বড় ধরনের সংস্কারের আন্দোলনে পরিণত হয়। বেশিরভাগ বিক্ষোভকারীই শান্তিপূর্ণ ছিলেন। কিন্তু কিছু কিছু স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে অন্তত ২০জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের খবরও পাওয়া গেছে। সহিংসতার মুখে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভের চিলির মধ্যপন্থী সরকার বেশ কয়েকটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব সংস্কার দেশটির কংগ্রেসে অনুমোদিত হতে হবে। কিন্তু দেশটির অনেক নাগরিক বলছেন, গভীর সামাজিক বৈষম্য দূর করতে এসব পদক্ষেপ একেবারে মলম লাগানোর মতো। ১৯৯০ সালে ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা থেকে গণতন্ত্রে উন্নীত হলেও সামাজিক বৈষম্যের অবসান হয়নি। অনেকের দাবি, সাবেক স্বৈরশাসক জেনারেল অগাস্টো পিনোশের আমলে গঠিত সংবিধানের বাতিল করতে হবে। ওই সংবিধানে সামাজিক সেবা, পানিসহ প্রাকৃতিক সম্পদ সম্পূর্ণরূপে বা আংশিকভাবে বেসরকারি মালিকান তুলে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading