বলিভিয়ার বিরোধীদলীয় সিনেটর নিজেকে অন্তর্বতী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১৪ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৪৮
নিজেকে বলিভিয়ার অন্তর্বতী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় সিনেটর জেনিন আনেজ। গত মঙ্গলবার কংগ্রেসে কোরাম সংকটের মধ্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। সেনাবাহিনীর চাপে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের বামপন্থী দলের আইনপ্রণেতাদের পার্লামেন্ট বয়কটের ফলে পরিস্থিতি জটিল রূপ নিয়েছে।জেনিন আনেজের ঘোষণার পর বলিভিয়ার রাজপথে বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে। মোরালেসের সমর্থকরা কংগ্রেস ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ছোড়ে। গত ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে তৈরি হওয়া অসন্তোষের জেরে গত রবিবার সেনাবাহিনীর চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দেন বলিভিয়ার প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস। পরদিন তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার কথা জানায় মেক্সিকো।
মঙ্গলবার তিনি মেক্সিকোয় পৌছালেও রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। মোরালেসের পদত্যাগের পর প্রেসিডেন্ট পদের জন্য তার সাংবিধানিক উত্তরাধিকার হতে সক্ষম সবাই পদত্যাগ করেন। ফলে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে কোন প্রক্রিয়ায় কে নতুন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সংবিধান অনুযায়ী মোরালেসের পদত্যাগ কার্যকর করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের অনুমোদন পেতে হবে। আইনগতভাবে অন্তর্বতী প্রেসিডেন্ট হতে হলেও সিনেটের অনুমোদন লাগবে। মঙ্গলবার মোরালেসের অনুগত আইনপ্রণেতারা সিনেটে যোগ না দেওয়ায় অধিবেশন বসার জন্য প্রয়োজনীয় কোরাম পূর্ণ হয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে সাময়িকভাবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেকে অন্তর্বতী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন সিনেটর জেনিন আনেজ। তিনি বলেন, মোরালেসের অনুসারীরা এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আর বলিভিয়ায় রাজনৈতিক শুন্যতা চলতে পারে না।
আনেজ দাবি করেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার কাতারে ছিলেন তিনি। একইসঙ্গে শিগগিরই নতুন নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় এই সিনেটর। জেনিন আনেজের ঘোষণার নিন্দা জানিয়ে তাকে অভণ্যত্থানের ষড়যন্ত্রকারী ডানপন্থী সিনেটর আখ্যা দিয়েছেন ইভো মোরালেস। এক টুইট বার্তায় তিনি এই ঘোষণাকে ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণ্য, গোপন অভ্যুত্থান বলে মন্তব্য করেন। জেনিন আনেজের ঘোষণার পর রাজধানী লা পাজের মূল কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করে মোরালেসের অনুসারীরা। তবে তাদের আটকে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। আকাশে টহল দিতে দেখা যায় সামরিক বিমান। তা সত্তে্বও বিক্ষোভকারীরা ‘আমরা ভীত নই’ স্লোগান দিতে থাকে। ৩৫ বছর বয়সী মারিয়া আপাসা বলেন, ‘ইভো আমার কাছে ছিলেন বাবার মতো। আমাদের কণ্ঠস্বর ছিল, অধিকার ছিল।’ এদিকে রবিবার মোরালেসের পদত্যাগের পর সোমবার এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে অন্য আঞ্চলিক নেতাদের জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, এটি ভেনেজুয়েলা ও নিকারাগুয়ার অবৈধ শাসকদের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। গণতন্ত্র ও মানুষের আকাঙ্ক্ষাই বিজয়ী হবে।

