শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১৭ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৪২
শ্রীলঙ্কার অষ্টম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মোট ৩৫ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। মূলত, এ নির্বাচন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি)-এর সাজিথ প্রেমাদাসা এবং বিরোধী দল শ্রীলঙ্কা পিপলস ফ্রন্ট (এসএলপিপি)-এর গোটাবায়া রাজাপক্ষের মধ্যে। শ্রীলঙ্কার ২২টি নির্বাচনি জেলায় প্রায় ১৩ হাজার ভোটকেন্দ্র খোলা হয়েছে। এবারের নির্বাচনের জন্য নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা এক কোটি ৬০ লাখ। বর্তমান প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা এবার নির্বাচন করছেন না। এর ফলে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হলেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী রানাসিংহ প্রেমাদাসার ছেলে সাজিথ প্রেমাদাসা। সংখ্যালঘু তামিল ও মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে তিনি জনপ্রিয়। বিরোধী দলের প্রার্থী গোটাবায়ে রাজাপক্ষে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের ভাই। চীনা ঋণের ফাঁদে পড়ে শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দর হারানোর ঘটনায় মাহিন্দা রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল তোলা হয়। ভাইয়ের আমলে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন গোটাবায়ে রাজাপক্ষে। ২০০৯ সালে সংখ্যালঘু তামিল ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ অবসানে তার তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ সিরিজ বিস্ফোরণে নিহত হন অন্তত ২৫৮ জন। ওই হামলার ক্ষত এখনও তাড়া করে বেড়ায় লঙ্কানদের। ফলে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে রাজধানী কলম্বোসহ পুরো দেশ। গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে শ্রীলঙ্কার নির্বাচন নিয়ে এ অঞ্চলের দুই প্রভাবশালী দেশ চীন ও ভারতের আগ্রহ রয়েছে। ভারত মহাসাগরের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানিসীমার মালিকানা দেশটির নিয়ন্ত্রণে থাকায় এ আগ্রহের মাত্রাও বেশি। ফলে শ্রীলঙ্কার নির্বাচনকে চীন-ভারতের লড়াই হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী সাজিথ প্রেমাদাসাকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চায় দিল্লি। অন্যদিকে বিরোধী দলের গোটাবায়া রাজাপক্ষকে ক্ষমতায় দেখতে চায় বেইজিং। তবে শেষ হাসি ফুটবে কার মুখে তা নির্ধারণ করবেন শ্রীলঙ্কার ভোটাররাই। সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স।

