হংকং-এর বিক্ষোভকারীদের প্রতি ফের হুঁশিয়ারি চীনের

হংকং-এর বিক্ষোভকারীদের প্রতি ফের হুঁশিয়ারি চীনের

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২০ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:৫২

হংকং-এর গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের প্রতি ফের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে চীন। গত সোমবার। হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের পর একজন চীনা কূটনীতিক ও অঞ্চলটির একজন চীনপন্থী রাজনীতিক এমন হুঁশিয়ারি দেন। চীনপন্থী রাজনীতিক ও হংকং আইন পরিষদের সাবেক প্রধান জেসপার সাং বলেছেন, হংকং-এর বিক্ষোভকে ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ পরিস্থিতিতে রূপান্তর করা হবে! আর বেইজিং চেয়ে চেয়ে তা দেখবে! এমনটা হবে না। পরিস্থিতি দিন দিন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। হংকং-এর বিক্ষোভে সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লিউ জিয়াওমিং। লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি মনে করি হংকং সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে খুব চেষ্টা করছে। তবে পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্যই হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। এই অস্থিরতা থামানোর মতো পর্যাপ্ত সমাধান ও ক্ষমতা আমাদের রয়েছে। ১৮ নভেম্বর সোমবার ভোর থেকেই হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের তীব্র সংঘর্ষে জড়ায় পুলিশ। এক পর্যায়ে ব্যারিকেডের পেছন থেকে পুলিশের দিকে পেট্রোল বোমা ও তীর ছুড়ে মারে আন্দোলনকারীরা। এতে ইউনিভার্সিটির প্রবেশপথে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, পুলিশের ওপর হামলা বন্ধ করা না হলে তারা বিক্ষোভরতদের ওপর গুলি ছুড়বে। কয়েকদিন ধরেই হংকং-এর পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় দখল করে রেখেছে বিক্ষোভকারীরা। গত সোমবার নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের টিয়ার গ্যাস ও জল কামানের হামলার জবাব দেয় পেট্রল বোমা, ইট ও তীর নিক্ষেপ করে। গত সোমবার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে ক্যাম্পাসের দখল নেওয়ার জন্য পুলিশ অগ্রসর হতে শুরু করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা পুলিশের দিকে পেট্রোল বোমা ছুড়লে ক্যাম্পাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কিছুক্ষণ সংঘর্ষ চলার পর পুলিশ পিছু হটে। ক্যাম্পাসের ভেতরে এখনও শত শত বিক্ষোভকারী রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দখল নিয়ে রাখা শিক্ষার্থীদের রবিবার সন্ধ্যার মধ্যে ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে বলা হলেও অনেকেই এখনও ক্যাম্পাসে রয়েছেন। পুলিশের মুখপাত্র লুইস লাউ এক ফেসবুক পোস্টে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘তারা যদি পুলিশের দিকে পেট্রোল বোমা, তীরের মত বিপজ্জনক অস্ত্র ছুড়ে মারা অব্যাহত রাখে; তাহলে গুলিবর্ষণ ছাড়া পুলিশের জন্য আর কোনও পথ খোলা থাকবে না।’ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে ক্যাম্পাস দখলে রাখা বিক্ষোভকারীদের ক্যাম্পাস ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে শনিবার চীনা সেনারা টি-শার্ট ও হাফ প্যান্ট পরে রাস্তায় বিক্ষোভের ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে এবং ব্যারিকেড সরিয়ে দেয়। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম হংকংয়ে থাকা চীনা সেনাদের রাস্তায় দেখা গেলো। সাধারণত তারা ব্যারাক ছেড়ে বের হয় না। এক সময়ের ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকং এখন চীনের অংশ। ‘এক দেশ, দুই নীতি’র অধীনে কিছু মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে হংকং। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থা রয়েছে, যা মূল চীনের চেয়ে ভিন্ন। গত ৯ জুন থেকে সেখানে কথিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, ওই বিল অনুমোদন করা হলে ভিন্নমতাবলম্বীদের চীনের কাছে প্রত্যর্পণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। লাখো মানুষের উত্তাল গণবিক্ষোভের মুখে একপর্যায়ে ওই বিলকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা দেন হংকংয়ের চীনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যাম। তবে এতে আশ্বস্ত হতে না পেরে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে সেখানকার নাগরিকরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হংকংয়ের স্বাধীনতার দাবি। সর্বশেষ গত ৮ নভেম্বর বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে আহত এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে অঞ্চলটির গণতন্ত্রপন্থীদের চীনবিরোধী বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। কয়েক মাস ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ফলে হংকং-এ অস্থিরতা বিরাজ করছে। তবে চীনা নিয়ন্ত্রণাধীন আধা স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলটিতে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে। গত কিছুদিন ধরে দফায় দফায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading