রাজধানী সুপার মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২১ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩৪
ফায়ার সার্ভিসের ২৫ ইউনিটের দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে
ঢাকার রাজধানী সুপার মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিটের দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। গতকাল বুধবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ এর দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক দেবাশীষ বর্ধন সারাবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, মূলত মার্কেটের দোতলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তা নিচতলা পর্যন্ত ছড়ায়নি। এর আগে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে টিকাটুলির এই মার্কেটটিতে আগুন লাগে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রাজধানী সুপার মার্কেটের নিচতলায় প্রায় দেড় হাজার ছোট বড় দোকান রয়েছে। দোতলায় রয়েছে এক থেকে দেড়শ। মার্কেটের উত্তর দিকের নিউ রাজধানী সুপার মার্কেটটি কেবল দোতলা। মূলত এই দোতলাতেই আগুন লেগেছে। নিচতলার মা কালেকশনের স্বত্ত্বাধিকারী নারায়ণচন্দ্র জানান, বাথরুম থেকে তিনিই প্রথম আগুন দেখতে পান। এরপর সবাইকে জানান। তার ধারণা, দ্বিতীয় তলার ফোম, বেডশিটের দোকান থেকেই আগুনের সূত্রপাত। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে বাড়ানো হয় ফায়ার সার্ভিসের লোকবল। সবশেষ ২৫টি ইউনিটের ১৮০ জন সদস্য কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় আশপাশের উত্সুক জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করেন পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যরা। রাব্বি ফ্যাশনের স্বত্ত্বাধিকারি আরিফুর রহমান জনান, দোতলার ৩০টির মতো দোকান পুড়ে গেছে। দোতলায় ছিল টেইলারিং, বেডশিট, স্বর্ণ, ফোম ও প্লাস্টিকের দোকান। এর মধ্যে পুড়েছে ফোম, প্লাস্টিক ও বেডশিটের দোকান। তবে তাত্ক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা কিছুই জানাতে পারেননি। তারা বলেছেন, তদন্ত করে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত রাজধানী সুপার মার্কেট ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মার্কেটটি মূলত টিনশেড। এখানে পোশাক, প্রসাধন সামগ্রী, নিত্যপণ্য, জুয়েলারিসহ বিভিন্ন রকমের সামগ্রীর দোকান রয়েছে।

