ইন্ডিয়াজুড়ে তীব্র বিতর্ক
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২২ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৪৮
এনআরসি নিয়ে অমিত শাহ’র হুঙ্কার, মমতাসহ অনেকের বিরোধীতা
ইন্ডিয়া সরকার এবার সারা দেশজুড়ে এনআরসি বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জী তৈরির কাজ শুরু করবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পার্লামেন্টে এ কথা ঘোষণা করার পর তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। অমিত শাহ জানিয়েছেন, সারা দেশের সঙ্গে আসামেও আবার এই তালিকা করা হবে এবং আসামের বিজেপি সরকারও বলছে তারা চায় আগের এনআরসি বাতিল করা হোক। সরকার যদিও আশ্বাস দিচ্ছে সারা ইন্ডিয়াজুড়ে এনআরসি করা হলেও তাতে কোনও ধর্মের মানুষদেরই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে মুসলিম এমপিরা অনেকেই তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। খবর বিবিসির। ব্রিটিশ গণমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অমিতের ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির মতো কোনও কোনও বিরোধী নেত্রী আবার সাফ জানাচ্ছেন, তাদের রাজ্যে এনআরসি করতেই দেওয়া হবে না। বস্তুত আসামে মাস তিনেক আগে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর থেকেই ইন্ডিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে একই ধরনের কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলছে কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতারা। এ নিয়ে দেশটিতে পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। চলছে রাজনৈতিক তুমুল বিতর্ক। এর মধ্যে গত বুধবার দেশটির পার্লামেন্টে বিজেপি এমপি স্বপন দাশগুপ্তর এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ কোনো রাগ-ঢাক না রেখে জানিয়ে দিয়েছেন, আলাদা আলাদাভাবে বিভিন্ন রাজ্যে নয়- সরকার এবার গোটা ইন্ডিয়াতেই একসঙ্গে এনআরসি চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এনআরসি প্রক্রিয়া এবার সারা দেশেই হবে। স্বভাবতই এর ফলে আসামেও সেটা নতুন করে আবার করতে হবে। তবে এখানে আমি আবার একটা জিনিস স্পষ্ট করে বলতে চাই, এতে কোনও ধর্মের মানুষেরই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কারণ, বৈধ নাগরিকরা যাতে এই তালিকাভুক্ত হতে পারেন- তার সব ব্যবস্থাই থাকবে।’ বিরোধী কংগ্রেসের মুসলিম এমপি সৈয়দ নাসির হুসেন অবশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছেন, অমিত শাহ এর আগে বারবার বলেছেন এনআরসিতে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই- কিন্তু কখনওই মুসলিমদের নাম নেননি। ফলে মুসলিমদের এটা নিয়ে ভয় পাওয়াটা খুব স্বাভাবিক বলেই তার অভিমত। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আরএসএন সিং যুক্তি দিচ্ছেন, ভারতব্যাপী এনআরসি হলেও সেটাকে কখনোই ধর্মের দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়। তিনি বিবিসিকে বলছিলেন, ‘এটা তো একটা জাতীয়তাবাদী পদক্ষেপ। এটা নিয়ে আপত্তি যে কীসের আমার তো সেটাই বোধগম্য নয়। বৈধ নাগরিকরা এদেশে থাকতে পারবে, বাকিদের নিজের রাস্তা খুঁজে নিতে হবে- এটাই সোজা কথা! ধর্মীয় নির্যাতনের শিকারদের কথা আলাদা। কিন্তু এটাও তো ভাবতে হবে, যারা অবৈধভাবে এদেশে ঢুকে পড়েছে তাদের বোঝা আর আমরা কতদিন টানব?’ এদিকে অমিত শাহের ঘোষণার ঘণ্টাকয়েকের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম-অধ্যুষিত জেলা মুর্শিদাবাদে এক জনসভায় গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কিছুতেই তার রাজ্যে এনআরসি হতে দেবেন না। মমতা বলেন, ‘বাইরের কিছু লোক বদমায়েশি করে নানাভাবে এনআরসির নাম নিয়ে আপনাদের উত্যক্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

