শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে অবস্থান চাকরি হারালেন ঢাবির ৫ শিক্ষক

শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে অবস্থান চাকরি হারালেন ঢাবির ৫ শিক্ষক

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৯ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:০৪

শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে অবস্থান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পাঁচ শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। গত বুধবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিন্ডিকেট সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা হলেন- গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সানোয়ার উদ্দীন আহমেদ, ফিন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মুজিবুল কবির, অ্যাকাউন্টিং ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোসাম্মত্ আসমা জাহান, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহেল শামসুজ্জামান, তড়িত্ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের প্রভাষক আয়েশা জামান।

এ বিষয়ে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওইসব শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু, তারা নির্দিষ্ট সময়ে ফিরে আসেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে না চললে কারও এখানে থাকা উচিত নয়।’

‘আমাকে ক্লাসে ফিরে যেতে দিন,’ এক ঢাবি শিক্ষকের আবেদন: এদিকে, ‘আমি শিক্ষক, আমাকে ক্লাসে ফিরে যেতে দিন’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেয়া শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদীর ছবি ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ওই শিক্ষক ক্লাসে ফেরার অনুমতি পাওয়ার দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক রুশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তার সাথে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে তাকে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। রুশাদ বার্তাসংস্থা- ইউএনবিকে জানান যে, ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে কোনো নোটিশ না দিয়েই বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। ‘হাইকোর্টর আদেশের পর আমি বিভাগে যোগদানের জন্য আবেদন করি। কিন্তু বিভাগ আমার আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বলে যে, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তাদের কিছু করার নেই।’ ‘কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমার সাথে এখনো যোগাযোগ করেনি। আসলে বিভাগের অনিয়মের বিরুদ্ধে আমি সব সময় কথা বলি এবং এ কারণেই লক্ষ্যবস্তু হয়েছি,’ যোগ করেন তিনি।  কর্তৃপক্ষ তাকে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত প্রতিদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ঢাবির চাকরিচ্যুত শিক্ষক রুশাদ। রুশাদকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের বৈধতা বিষয়ে হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ২৪ জুলাই প্রশ্ন তোলে। সেই সাথে সিদ্ধান্তটিকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তার ব্যাখ্যা দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে রুল জারি করে আদালত। দুই বছর পর চলতি বছরের ২৫ আগস্ট হাইকোর্ট সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং রুশাদকে কাজে যোগদানের সুযোগ দেয়ার জন্য ঢাবি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিক উজ জামান সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও রুশাদ ফরিদীর মাঝে আইনি বিরোধ থাকায় এতে তাদের কিছু করার নেই। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রুশাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে এবং তারা শুধু সেটা অনুসরণ করবেন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading