মঙ্গলের বাতাসে মিলল অক্সিজেন
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:৪০
মঙ্গলের বায়ুমন্ডওল এই প্রথম হদিস মিলল অক্সিজেন অণুর। পৃথিবীর শ্বাসের বাতাস। প্রাণের বেঁচে থাকার প্রধান জ্বালানি। এই আবিষ্কার ভিন গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনাকে আরো জোরালো করে তুলল। যে আবিষ্কারের সঙ্গে জড়িয়ে গেল এক অনাবাসী ভারতীয়ের নামও। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুশীল আত্রেয়। নাসার রোভার ‘কিউরিওসিটি’-এর পাঠানো তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে লেখা সেই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: প্ল্যানেটস’-এর সামপ্রতিক সংখ্যায়। গবেষকরা জানিয়েছেন, মঙ্গলের খুব পাতলা হয়ে আসা বায়ুমন্ডলে অন্যান্য গ্যাসের সঙ্গে এখনো রয়েছে অক্সিজেন। অক্সিজেন অণু। যা দুটি অক্সিজেন পরমাণু দিয়ে গড়া। পৃথিবীর মতোই। আর তার পরিমাণটাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ। ইন্ডিয়ান মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) থেকে পিএইচডি করার পর এখন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট অ্যান্ড স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক, সহযোগী গবেষক সুশীল আত্রেয় ‘আনন্দবাজার ডিজিটাল’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে বলেছেন, ‘যা আমাদের অবাক করে দিয়েছে, তা হলো মঙ্গলের বায়ুমন্ডলে সেই অক্সিজেনের পরিমাণটা বিভিন্ন ঋতুতে কমছে-বাড়ছে। যেটা পৃথিবীতে হয় না। আমরা দেখেছি, মঙ্গলে যখন বসন্ত আসে, তখন তার বায়ুমন্ডলে এক লাফে প্রায় তিন গুণ বেড়ে যায় অক্সিজেনের পরিমাণ। নাসার রোভার ‘কিউরিওসিটি’ মঙ্গলের মাটিতে চষে বেড়াচ্ছে সাত বছর ধরে। পৃথিবীর ৬৮৭ দিনে একটা বছর হয় মঙ্গলে (মার্শিয়ান ইয়ার)। যার অর্থ, ২০১২ সাল থেকে মঙ্গলের তিনটি বছরে বসন্ত থেকে শীত আর গ্রীষ্ম, সবগুলো ঋতুতে দেখেছে কিউরিওসিটি। ফলে, অনেকটা সময় ধরেই মঙ্গলের বায়ুমন্ডল জরিপ করার সুযোগ পেয়েছে নাসার পাঠানো রোভার। জানা গেছে, মহাকাশের অতিবেগুনি রশ্মি মঙ্গলের বায়ুমন্ডলের একেবারে ওপরের স্তরে (পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের ক্ষেত্রে যা আয়নোস্ফিয়ার) থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে ভেঙে দেয় কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস আর অক্সিজেন পরমাণুতে। সেই বায়ুম-ল যত মঙ্গলের মাটির কাছাকাছি আসে, ততই মঙ্গলে থাকা জলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তা অক্সিজেন অণুর জন্ম দেয় লাল গ্রহে। ঘটনা হলো অক্সিজেন অণু চট করে ভাঙে না। তা অনেক বেশি স্থায়ী। তাই গবেষকরা আশা করেছিলেন, মঙ্গলের বায়ুম-লে থাকা অক্সিজেনের পরিমাণে কোনো রদবদল ঘটবে না সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। ঋতুচক্রে। মূল গবেষক মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের মহাকাশবিজ্ঞানী মেলিসা জি ট্রেনার ‘আনন্দবাজার ডিজিটাল’কে ই-মেইলে লিখেছেন, ‘এই অক্সিজেনটা মঙ্গলের পিঠ থেকে উঠে এসেই বায়ুমন্ডলে মিশছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে। সেইসব অক্সিজেন অণুর জন্ম হতে পারে মঙ্গলে থাকা রাসায়নিক হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড এবং পারকোলেট থেকে।’ সুশীলের কথায়, ‘হয় অণুজীবই তাদের শরীর বৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় বায়ুমন্ডলে ছেড়ে দিচ্ছে ওই গ্যাস। নাহলে, তা তৈরি হচ্ছে মঙ্গলেরই কোনো অভ্যন্তরীণ কারণে। পৃথিবীর ক্ষেত্রে যাকে বলা হয় ‘জিওথার্মাল প্রসেস’। মঙ্গলেও যদি ওই দুটি কারণেই মিথেন গ্যাসের জন্ম হয়ে থাকে, তাহলে লাল গ্রহে প্রাণের এখনো অস্তিত্বের সম্ভাবনাকে যে আরো জোরালো করে তুলবে, তা নিয়ে অন্তত কোনো সন্দেহ নেই।’ সুশীল মনে করেন, ‘এমন কিছু প্রক্রিয়া চলছে মঙ্গলের অভ্যন্তরে যা বায়ুমন্ডলে যেমন মিথেন ভরে দিচ্ছে, তেমনই কিছুক্ষণ পর বায়ুম-ল থেকে সেই মিথেন গ্যাসকে টেনে বেরও করে নিচ্ছে। আর অল্প সময়ের মধ্যে মিথেন অণু কীভাবে ভেঙে যেতে পারে, তারও কোনো উপায় আমরা জানি না এখন পর্যন্ত।’ ষূত্র: আনন্দবাজার

