বন্যায় বছরে গৃহহীন হবে ৫ কোটি মানুষ!

বন্যায় বছরে গৃহহীন হবে ৫ কোটি মানুষ!

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩৪

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশের সরকার এখনই ব্যবস্থা না নিলে শুধু বন্যার কারণে গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা এ শতকের শেষ নাগাদ বছরে পাঁচ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।  অর্থাত্, গত শতকের ১৯৭০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বন্যার কারণে বিশ্বে যে পরিমাণ মানুষ ঘরহারা হয়েছে, সেটি পাঁচগুণ বেড়ে যাবে। ওই সময়ে বছরে এক কোটি মানুষ গৃহহীন হত বন্যার কারণে। গত মঙ্গলবার মাদ্রিদে জাতিসংঘ আয়োজিত জলবায়ু বিষয়ক এক আলোচনায় জেনেভাভিত্তিক ‘ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টার’- আইডিএমসির গবেষক জাস্টিন জিনেত্তি বলেন, জনসংখ্যা সাথে সাথে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়া এবং দ্রুত বরফ গলতে থাকায় ঘন ঘন বড় ধরনের বন্যার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এই গবেষকের মতে, যে পরিমাণ মানুষের গৃহহীন হওয়ার শঙ্কার কথা বলা হচ্ছে, তার অর্ধেকই জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হবে। আর বাকি মানুষ ঘরহারা হবে জনসংখ্যার বাড়ার কারণে। আইডিএমসির হেড অব ডেটা অ্যান্ড অ্যানালাইসিস জিনেত্তি বলেছেন, পূর্বাভাসে ঝুঁকির যে চিত্রটি এসেছে, সেটিকে আংশিক বলা যেতে পারে। কিন্তু বন্যার কারণে স্থানচ্যুত অর্ধেকের বেশি মানুষই আসলে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হবে, যে পরিস্থিতিকে তিনি বর্ণনা করেছেন ‘ভয়াবহ’ হিসেবে। “বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার বৃদ্ধির হার এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার যে পরিকল্পনা, বিভিন্ন দেশের সরকার যদি তা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেয়, তাহলে বন্যার কারণে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা বছরে দুই কোটিতে আটকে রাখা যেতে পরে,” বলেন জিনেত্তি। তিনি বলেন, “জলবায়ুর কারণে স্থানচ্যুতি বিশ্বের জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। আমাদের জন্য ভবিষ্যতে আবহাওয়ার আরও চরম অবস্থা বিরাজ করছে। সুতরাং ভবিষ্যত্ ঝুঁকির গুরুত্ব বোঝাটা আমাদের জন্য জরুরি- কেন এটা হচ্ছে, আমাদের কি করা উচিত।” ঝড়ের কারণে কত মানুষ ঘরহারা হতে পারে, সে ব্যাপারেও একটি আভাস দেওয়ার জন্য আইডিএমসির গবেষণার ক্ষেত্র আরও বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা অক্সফাম সোমবার জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং দাবানলের কারণে গত এক দশকে প্রতিবছর দুই কোটির বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছে। জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় বিশ্বনেতারা দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সমস্যা আরও প্রকট আকার নেবে বলে জনিয়েছে সংস্থাটি। বন্যার কারণে মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়া ঠেকাতে ভালো কিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন আইডিএমসির গবেষক জিনেত্তি। এর মধ্যে রয়েছে নগরায়নের এমন পরিকল্পনা, যেখানে নদীসংলগ্ন বন্যাপ্রবণ এলাকায় বসতি স্থাপনকে নিরূত্সাহিত করা হবে এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষজনকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে আরও বিনিয়োগ করা।

এক্ষেত্রে দুর্যোগ মোকাবেলায় দক্ষিণ এয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ এবং চীনের উদাহরণ টেনেছেন জাস্টিন জিনেত্তি।  এসব দেশ ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় ঝুঁকির মুখে থাকা তাদের লাখ লাখ নাগরিককে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার যে সক্ষমতা অর্জন করেছে, সে ধরনের পদক্ষেপ আফ্রিকার দেশগুলোতেও নেওয়া উচিত বলে তিনি মত দিয়েছেন। জিনেত্তি বলেন, শুধু যে দরিদ্র দেশগুলোই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশকিছু ধনী দেশেও বন্যাপ্রবণ এলাকায় এখনও স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি অর্থেও এ কাজ করা হয়। “এই ধরনের বিনিয়োগ শুধু নষ্টই হয় না, (মানুষের) স্থানচ্যুতির কারণও হয়। এই প্রবণতা বন্ধ করা উচিত।” প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্থানচ্যুতি, মরুকরণ, সমুদ্রপষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিসহ জালবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ২০১৩ সালে একটি আন্তর্জাতিক কমিটি গঠিত হয়। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় ওয়ারশ ইন্টারন্যাশনাল মেকানিজম ফর লস অ্যান্ড ড্যামেজ (ডব্লিউআইএম) নামের এই কমিটির তত্পরতায় জলবায়ুর কারণে স্থানচ্যুতদের বিষয়ে অনেক তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি এ প্রবণতা কমাতে বিভিন্ন দেশের সরকারকে নীতিমালা তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading