শিল্পকলায় মঞ্চস্থ থিয়েটারের নিখাই
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:১৮
ব্রিটিশ শাসন আমলের একটি গল্প। যে গল্প একটা স্টিমার ঘাটকে কেন্দ্র করে। নানা ধরনের লোকের আনাগোনা সেখানে। স্থায়ীভাবে কেউই থাকে না ঘাটে। কিন্তু এক বৃদ্ধ ১০ বছর ধরে এই ঘাটকে আঁকড়ে পড়ে আছেন, রাত-বিরাতে এই ঘাটে কেউ না থাকলেও ওই বৃদ্ধকে ঠিকই পাওয়া যায়। একদিন হঠাত্ মাঝরাতে এক ব্রিটিশ দারোগা তার স্ত্রীকে নিয়ে হাজির হয় ঘাটে। নদী পার হওয়া তাদের জন্য ভীষণ জরুরি। কিন্তু কোনো মাঝি না পাওয়ায় অপেক্ষা করতে হয় তাদের। এরপর একের পর এক ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। বেরিয়ে আসে একজন মানুষের জন্মের ইতিহাস। এমনই সন্ধানী এক চিরকালীন ভালোবাসার গল্প ‘নিখাই’। আর এই গল্পকে নাট্যরূপে মঞ্চে এনেছে ঐতিহ্যবাহী নাট্যসংগঠন থিয়েটার। তদের ৩৪ তম প্রযোজনা ‘নিখাই’। নাটকটি রচনার পাশাপাশি নির্দেশনা দিয়েছেন গাজী রাকায়েত। গতকাল (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে নাটকটির ৫৭তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ‘নিখাই’ প্রসঙ্গে নাট্যকার ও নির্দেশক গাজী রাকায়েত জানান, ‘নরহত্যা অথবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ করা ব্যতীত যদি কেউ কাউকে হত্যা করে, তবে বিবেচনা করা হবে সে সমগ্র মানবজাতিকেই হত্যা করল। আর কেউ কারও প্রাণ রক্ষা করলে বিবেচনা করা হবে সে পৃথিবীর সব মানুষের প্রাণ রক্ষা করল। আজ পৃথিবীতে দেশে দেশে জাতিতে জাতিতে যে দ্বন্দ্ব, সেটা এই বিভক্তিকে কেন্দ্র করেই। এই বিভক্তি মানবজাতিকে মহাপ্রলয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। শুধু ধর্মে ধর্মে নয়, একই ধর্মের মধ্যেও মানুষে মানুষে যে ব্যবধান সেটাও ভয়াবহ! পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে মানুষের সঙ্গে মানুষের যে ব্যবধান সেটাকে ঘোচাতে হবে-এর কোনো বিকল্প নেই। আর এই বৈষম্যহীনতা ও মানবিকতাকে ধারণ করেই এ নাটকের কাহিনি।’ নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন প্রবীর দত্ত, রফিকুল ইসলাম রফিক, তৌহিদুল ইসলাম বাদল, ইউশা আনতারা প্রপা ও শংকর সরকার।

