নিয়ন্ত্রণে আসছে না পেঁয়াজের দাম

নিয়ন্ত্রণে আসছে না পেঁয়াজের দাম

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৫৪

পেঁয়াজের মূল্য আরও বেড়েছে। আমদানি ও দেশি দুই ধরনের পেঁয়াজের মূল্যই বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২১০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। রাজধানীর মানিকনগর বাজার, সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এই তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর তথ্য বলছে, গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে। টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে আমদানি করা পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে ৩২ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে এই পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে ৫২০ শতাংশ। তবে এক মাসের ব্যবধানে দেশি  পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে ৯১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আর এক বছরের ব্যবধানে এই পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে ৬২৩ শতাংশ। টিসিবি বলছে, ২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বর দেশি পেঁয়াজের মূল্য ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। এক বছর পরে ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর নিত্য প্রয়োজনীয় এই পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা। তবে, রাজধানীর বাজারগুলোতে এর চেয়েও বেশি মুল্যে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে। ভালো পেঁয়াজ (দেশি) ২৬০ থেকে ২৭০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা মিসরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। মিয়ানমারের পেঁয়াজ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। চীনা পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। এদিকে, এলাচের প্রতি কেজিতে মূল্য বেড়েছে ১০০ টাকা। আর ডালের কেজিতে মূল্য বেড়েছে ৫ টাকা। গত সপ্তাহে যে এলাচ ৩ হাজার ৫০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে, সেই এলাচ গতকাল শুক্রবার প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ টাকা দরে। আর গত সপ্তাহের ১০০ টাকা কেজির (দেশি) ডাল এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা কেজি দরে। কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘পেঁয়াজের সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি থাকতে পারে। তবে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে মূল্য বাড়বেই। নতুন পেঁয়াজ উঠলে কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু নতুন পেঁয়াজ আসার পরও যদি মূল্য না কমে, তাহলে হয়তো কিছুই বলার থাকবে না।’ যদিও পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকায় টিসিবি এখন প্রতিদিন ৫০টি ট্রাকে ১ হাজার কেজি  পেঁয়াজ বিক্রি করছে। টিসিবি’র পেঁয়াজ অবশ্যই ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, শীতকালীন শাক-সবজির সঙ্গে দেশি পেঁয়াজও বাজারে আসা শুরু হয়েছে। সরবরাহ বাড়ায় বাজারে কমেছে শাক-সবজির মূল্য। বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা দরে। সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকালীন শাক-সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, শালগম, শিমসহ প্রায় সব ধরনের সবজির সরবরাহ বাড়ায় রাজধানীর বাজারগুলোয় কিছু কিছু সবজির মূল্য কমেছে।  শিম ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।  পাইকারিতে শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। বাজারে এখন কাঁচা টমেটোর পাশাপাশি দেশি পাকা টমেটোও এসেছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০-১২০ টাকা। বাজারে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি। বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা কেজি। ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৩০-৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মূলা প্রতিকেজি ২০-৩০ টাকার মধ্যে চলে এসেছে। করলা ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছুটা কম মূল্যে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বাজারে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায়। পাকিস্তানি মুরগি ২০০ টাকা থেকে ২১০ টাকায় আর লেয়ার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের মতোই গরুর মাংস ৫৩০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অস্বস্তি চালের বাজারেও: পেঁয়াজের মূল্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্বস্তি এখনও কাটেনি। এরইমধ্যে বেড়ে চলেছে চালের মূল্যও। সরকারি হিসাবেই গত এক মাসের ব্যবধানে প্রতিকেজি চালে দাম বেড়েছে ৪ টাকা। গত ৬ নভেম্বর যে চাল (মোটা চাল) কেজিপ্রতি ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেই চাল ডিসেম্বরের ৬ তারিখে বিক্রি হচ্ছে ৩৪ টাকা দরে। চালের দাম বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাঈম মিয়া বলেন, ‘প্রতিবছরই এই সময় চালের মূল্য একটু বাড়ে। মিনিকেট চালের মূল্য কিছুটা বেড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কিছু দিনের মধ্যেই নতুন চাল বাজার ঢুকবে। নতুন চাল আসার আগমুহূর্তে বাজার খানিকটা চড়া হয়। তবে, বাজারে চালের কোনও সংকট নেই। কাজেই এখন একটু বাড়লে অচিরেই আবার কমা শুরু হবে।’ বিক্রেতারা বলছেন, চিকন চালের পাশাপাশি মোটা চালের মূল্যও বেড়েছে। পাইকারি বাজারে চালের মূল্য বাড়ার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেও। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশ অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর তথ্য বলছে, গত এক মাসে সব ধরনের চালের মূল্য বেড়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাঝারি ধরনের চালের মূল্য। গত এক মাসে এই চালের মূল্য বেড়েছে ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। গত ৬ নভেম্বর মাঝারি ধরনের চালের প্রতিকেজির মূল্য ছিল ৪২ থেকে ৪৮ টাকা। আর এই মাসে অর্থাত্ গতকাল শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) এই চাল প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৪৬ থেকে ৫২ টাকা। অর্থাত্ এক মাসে প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা। চালের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading