অন্ত্রের রোগ থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি

অন্ত্রের রোগ থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:৩০

‘ইনফ্লামাটরি বাওয়েল ডিজিজ (আইবিডি)’তে আক্রান্ত তরুণ রোগীদের ভাইরাসজনীত সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় পাঁচগুন বেশি। আর এই সংক্রামক রোগ পরবর্তী সময়ে স্থায়ীভাবে কোনো অঙ্গ নষ্ট হওয়ার দিকে মোড় নিতে পারে। সম্প্রতি ‘ইউনাইটেড ইউরোপিয়ান গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণার ফলাফলে এরকম ইঙ্গিত দেওয়া হয়। এই গবেষণার জন্য গবেষকরা ২৭০০ জন আইবিডি’তে আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে কাজ করেন। গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল এই রোগের বৈশিষ্ট্য ও এই রোগের ওষুধের কারণে সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু ইত্যাদি বোঝা। ‘ক্লিনিকালি অ্যাকটিভ আইডিবি’ এবং ‘থিওপিউরিন্স’কে সংক্রামক রোগের প্রধান প্রভাবক হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এই গবেষণায়। ‘থিওপিউরিন্স’ হল এক শ্রেণির ‘ইমিউনোমডিউলেটরস’ যা প্রায় ৬০ শতাংশ ‘আইবিডি’ রোগীর চিকিত্সায় ব্যবহার হয়। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সি তরুণ রোগীদের সংক্রামক রোগের আশঙ্কা সবচাইতে বেশি। তবে সকল বয়সের মানুষের মারাত্বক সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও প্রায় তিন গুন বেশি। ফ্রান্সের সেইন্ট-অ্যান্টোইন হাসপাতালের অধ্যাপক এবং এই গবেষণার প্রধান গবেষক লওরেন্ট বিউগেরি বলেন, ‘আইবিডি’ রোগের ওষুধের সঙ্গে মারাত্বক সংক্রামক রোগের সম্পর্ক থাকাটা বেশ চিন্তার বিষয়। কারণ বর্তমানে ‘আইবিডি’র কারণে হওয়া জটিল শারীরিক সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়াই এই রোগের চিকিত্সার বড় খরচ। আর এই রোগের ক্রমবর্ধমান রোগীর সংখ্যা বর্তমান স্বাস্থ্যসেবা সংগঠনের উপর ক্রমাগত চাপ বাড়াবে।’ ‘থিওপিউরিন’ ব্যবহারের সঙ্গে একাধিক জটিল সংক্রামণ রোগের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায় এই গবেষণায়। একদিকে, যেসব ‘আইবিডি’ রোগী কোনো চিকিত্সা নিচ্ছেন না তারাও সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় একই মাত্রার ঝুঁকিতে আছেন। অপরদিকে, যাদের ‘ইমিউনোমডিউলেটর’য়ের সাহায্যে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে তাদের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ছয় গুন বেশি। বিউগেরি বলেন, ‘চিকিত্সকদের ‘আইবিডি’ রোগীদের মারাত্বক সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়া ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক হতে হবে, যা আগে নিশ্চিতভাবে জানা ছিল না। তরুণ রোগীদের ঝুঁকি বেশি, যেহেতু তাদের ‘ইবিভি’ ও ‘সিএমভি’ ভাইরাসের সংস্পর্শে না আসার সম্ভাবনাই বেশি। তাই তাদের এই ভাইরাসগুলোর বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠার আশঙ্কা কম। এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয় ‘ইমিউনোসাপ্রেসিভ’ অর্থাত্ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দমিয়ে রাখার ওষুধ সেবন।’

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading