রাজাকারের তালিকায় ‘মুক্তিযোদ্ধার নাম’ মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

রাজাকারের তালিকায় ‘মুক্তিযোদ্ধার নাম’ মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩২

রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম আসায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই করে নতুন তালিকা ঘোষণা করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ কথা বলেন। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে উত্সর্গ করা মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার নুরুল ইসলাম খানের ‘মুক্তিযুদ্ধ এবং আমি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করে আ ক ম মোজাম্মেল হক। এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর প্রথম দফায় সারাদেশের ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী। এদিকে, ‘রাজাকারের তালিকা’য় মুক্তিযোদ্ধাসহ স্বাধীনতার পক্ষের ব্যক্তিদের নাম থাকার ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দুঃখপ্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তালিকাটি তৈরি করেনি। বরং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ভুলভাবে কারও নাম তালিকাভুক্ত হয়ে থাকলে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই করে তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানান মন্ত্রী। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের এই ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়।

গত রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তখন তিনি দাবি করে ছিলেন, ওই ‘তালিকায় কোনও মুক্তিযুদ্ধার নাম নেই’। এর একদিন পরই সেই দাবি থেকে সরে এসে জাতিকে নতুন কথা শুনালেন আ ক ম মোজাম্মেল হক।

ব্যাপক অভিযোগ পেলে তালিকা প্রত্যাহার: সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘রাজাকারের এই এই তালিকা নিয়ে যদি ব্যাপক হারে অভিযোগ আসে, তাহলে আমরা তা প্রত্যাহার করে নেবো।’ মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করায় ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনী হত্যা করেছিল বরিশালের আইনজীবী সুধীর কুমার চক্রবর্তীকে। তার ছেলে আইনজীবী তপন কুমার চক্রবর্তী একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রথম ধাপে রাজাকারের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে তপন কুমারের নামও এসেছে। একই সঙ্গে আছে তার মা প্রয়াত ঊষা চক্রবর্তীর নামও রাজাকারের তালিকায়। রাজাকারের তালিকায় নাম এসেছে যুদ্ধাপারাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুরও। যিনি একজন ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘রাজাকারের এই তালিকা আগেই করা ছিল। তালিকাটি কোনও ধরনের এডিট ছাড়াই প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা এখন তথ্য সংগ্রহ করছি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তা যাচাই-বাছাই করবো। তাছাড়া এই তালিকায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারও নাম রাখা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার নাম এই তালিকায় আসলে আমি যেমন কষ্ট পেতাম, তেমনি যাদের নাম এসেছে, তারাও কষ্ট পেয়েছেন। আমি এ কারণে ব্যথিত।’ একই সঙ্গে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘যেসব মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেছেন, যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন, তাদের অনেকেই জীবিত থাকা অবস্থায় এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাই তাদের নাম যদি এই তালিকায় থেকে থাকে, তারা প্রতিবাদ করতে পারবেন। একটা সংশোধনের সুযোগ থাকবে। কিন্তু ৩০ বছর পরে করলে এই সুযোগটা আর থাকতো না।’ এ বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি, এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ, কাউকে অন্যায়ভাবে দোষের জায়গায় নেওয়া কারও কাছেই শোভনীয় নয়।’

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading