ক্যাসিনোকাণ্ড বিদেশ থেকে খালেদের সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণে ‘নাছির’!
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৪৬
ক্যাসিনোকাণ্ডে মতিঝিল এলাকার ত্রাসখ্যাত খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া কারাগারে যাওয়ার পর বিদেশে বসে তার সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে ‘ইতালি নাছির’ নামে এক ব্যক্তি। খুন-চাঁদাবাজির মামলা কাঁধে নিয়ে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নাছির পালিয়ে আছে ইতালিতে। সেখানে থেকেই সম্রাট-খালেদের সহযোগিতায় গোপীবাগ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ করতো। সম্রাট-খালেদের অনুপস্থিতিতে তার চোখ পড়েছে পুরো মতিঝিল এলাকায়। নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী রয়েছে তার। মতিঝিল-গোপীবাগ এলাকায় নাছিরের নামে চলছে চাঁদাবাজিও। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সম্রাট-খালেদের সহযোগী হিসেবে যারা কাজ করতো, তাদের অনেকের তালিকা করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি বা মাদক ব্যবসাসহ যেকোনও অপরাধের সঙ্গে জড়িত হওয়ার খবর পেলেই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। জানতে চাইলে র্যাব-৩-এর অধিনায়ক শফিউল্লাহ বুলবুল বলেন, ‘দেশে বা বিদেশে বসে কেউ যদি আইন বহির্ভূত কর্মকাণ্ড করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ‘ইতালি নাছির’ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। তার সহযোগীদের কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা অন্য কোনও অপরাধের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোপীবাগেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা নাছিরের। একসময় গোপীবাগ এলাকার টিটিপাড়া বস্তিতে ফেন্সিডিল ব্যবসা করতো সে। এ কারণে আগে তার নাম ছিল ‘ফান্টু নাছির’। ২০০০ সালে যুবলীগের এক নেতাকে হত্যার পর আত্মগোপনে যায় সে। খোকন নামে তার এক সহযোগীকে হত্যা মামলারও আসামি সে। তার বিরুদ্ধে রাজা নামে সহযোগী এক মাদক ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল একাধিকবার। কারাগারে থাকা অবস্থায় তালিকাভুক্ত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকায় দ্রুত কারাগার থেকে বের হয়ে আসে নাছির। তত্কালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকেও বিশেষ সুবিধাও নিয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, জেল থেকে বের হয়ে এসে খোকন নামে আরেক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নাছিরের নাম এলে সে পালিয়ে যান ভারতে।

