রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মুসলিম নিধন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে আরেকটি প্রস্তাব পাস
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন সংস্করন । ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ১৩:৩০
রোহিঙ্গা মুসলমানসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর গণহত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য মিয়ানমারে বিরুদ্ধে আরেকটি প্রস্তাব পাস হয়েছে জাতিসংঘে। ২০১৭ সালের অগাস্টে রোহিঙ্গা সঙ্কট শুরুর পর মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এ যাবৎ তিনটি প্রস্তাব পাস হল সাধারণ পরিষদে। গত শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সাধারণ পরিষদে ওই প্রস্তাব পাস হয়। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ১৩৪টি। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে ৯টি দেশ। তবে ২৮টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। জাতিসংঘে এই প্রস্তাব যৌথভাবে উত্থাপন করে ওআইসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মিয়ানমারে বর্বরতা বন্ধে এবং বাস্তুভিটা ত্যাগে বাধ্য হওয়া রোহিঙ্গাদের সসম্মানে নিরাপদে নিজ বসতভিটায় ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তার জন্যে প্রস্তাবটি আনা হয়েছিল। এর পর গত ১৪ নভেম্বর জাতিসংঘের থার্ড কমিটিতে অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থনে প্রস্তাবটি অনুমোদন পেয়েছিল।
কূটনীতিক ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাতিসংঘে নতুন করে এই প্রস্তাব পাসের ফলে রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক মহলের সার্বিক সমর্থনের ব্যাপারটি পুনরায় দৃশ্যমান হলো। একই অধিবেশনে মিয়ানমার পরিস্থিতির বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রক্রিয়া পরিচালনা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে অর্থ মঞ্জুরির সর্বসম্মত একটি সিদ্ধান্তও হয়েছে। আল জাজিরা, রয়টার্স, বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল স্বাধীন ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন তৈরি করেছে।
এদিকে, রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারও চলছে। এর শুনানি শেষ হয়েছে, এখন রায়ের অপেক্ষা। দ্য হেগের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) এই বিচারের মধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নতুন প্রস্তাব পাস গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টের ২৫ তারিখে মিয়ানরারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ শুরুর পর এ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে সাত লাখেরও বেশি। এর আগে বিভিন্ন সময় নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে এসে আরও অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তাদেরকে প্রত্যাবাসনে রাজি হলেও দীর্ঘদিন ধরে গড়িমসি করছে মিয়ানমার সরকার। এর ফলে দিন দিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে দেশটি।

