বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ভাঙচুর অঙ্গি সংযোগ

বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ভাঙচুর অঙ্গি সংযোগ

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০১ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১১:৪৬

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসটিকে ঘিরে ইরানপন্থী বিক্ষোভকারীরা একটি দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা দূতাবাসের চারপাশে তাঁবু খাটিয়েছেন এবং বলছেন, ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা অবরোধ উঠিয়ে নেবেন না। এর আগে গত মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) এসব বিক্ষোভকারী মিছিল করে বাগদাদের ‘গ্রিন জোন’-এ মার্কিন দূতাবাসের দিকে যায় এবং দূতাবাসের ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। তারা দূতাবাসের একটি অংশে ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর বিবিসির।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ক’দিন আগে একটি আধাসামরিক বাহিনীর ক’জন সদস্য মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হওয়ার জের ধরে হাজার হাজার মানুষ বাগদাদের পথে নামেন। আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ কয়েকজন সিনিয়র মিলিশিয়া ও প্যারামিলিটারি নেতা শোভাযাত্রাকারীদের সাথে পায়ে হেঁটে গ্রিন জোনের দিকে যান। ওই এলাকায়ই ইরাকের অধিকাংশ সরকারি অফিস ও বিদেশি দূতাবাস অবস্থিত। ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও তাদের ওই জোনে প্রবেশ করে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বাইরে রাস্তায় সমবেত হওয়ার সুযোগ দেয়।

ইরান-সমর্থিত কাতাইব হেজবোল্লাহর ওপর মার্কিন হামলা চলে গত রোববার। এতে অন্তত ২৫ ব্যক্তি নিহত হন। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, মার্কিন লক্ষ্যবস্তুর ওপর রকেট হামলার পাল্টা জবাব দিতেই তারা ওই বিমান হামলা চালিয়েছেন। এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামিনি শিয়া আধাসামরিক বাহিনী কাতাইব হেজবোল্লাহর ওপর মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অপরদিকে, বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার পেছনে ইরান রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জবাবে খামিনি তার নিন্দা করেন। ট্রাম্প টুইটারে এক পোস্টে লেখেন, যেকোনও প্রাণহানি ও দূতাবাসের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে “চরম মূল্য দিতে হবে। এটা কোনও সতর্কবাণী না, এটা একটা হুমকি।”

তবে ট্রাম্পের হুমকিকে পাত্তা দিচ্ছেন না বাগদাগে আন্দোলনকারীরা। বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের কাছে বুধবারও (১ জানুয়ারি) দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দূতাবাসের ওপর ঢিল ছোঁড়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস এবং স্টান গ্রেনেড ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন সরকার ঘোষণা করেছে যে, অবনতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সেখানে (ইরাক) অতিরিক্ত সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার জানিয়েছেন, আরও ৭৫০ জন মার্কিন সৈন্য সেখানে পাঠানো হচ্ছে। এ মুহূর্তে ইরাকের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫ হাজার সৈন্য মোতায়েন আছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading