অর্থমন্ত্রীর নতুন সুর: এক অঙ্কের সুদ বাস্তবায়ন এপ্রিলে
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০১ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৮ঃ১০
বেসরকারি ব্যাংকে ডিপোজিটে মুনাফা বেশি থাকবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ব্যাংকের সুদ হার বেধে দেওয়ার পর আমানতকারীদের সবাই যাতে সরকারি ব্যাংকের দিকে ঝুঁকে না পড়েন, তা ঠেকাতে এই ব্যবস্থা। আর নতুন বছরের এপ্রিল থেকে ব্যাংকের নতুন সুদ হার বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেছেন মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, সব ঋণের সর্বোচ্চ সুদ হার ৯ শতাংশ এবং আমানতের সুদ হার ৬ শতাংশ বাস্তবায়নে কঠোর থাকবে সরকার। ইংরেজি নতুন বছর ২০২০ সালের প্রথমদিন, বুধবার (১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
আমানতে সুদ হার নিয়ে এসময় তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি- উভয় ব্যাংকে ডিপোজিটের ক্ষেত্রে যদি সুদ হার ৬ শতাংশ করে দেওয়া হয় তাহলে সবাই সরকারি ব্যাংকে টাকা রাখবে। তাই সরকারি ব্যাংকে ডিপোজিটের সুদ হার হবে সাড়ে ৫ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকে ডিপোজিটের ক্ষেত্রে সুদ হার হবে ৬ শতাংশ।
আগে ব্যাংকাররা কথা দিলেও ঋণের সুদ হার এক অঙ্কে আনেনি এবার করবে কি না এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকাররা কো-অপারেশন করবে, সরকারের সাথে ব্যাংকগুলোর কোনো বৈরিতা নেই। আগে তাদের (ব্যাংকগুলোর) উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, কেউ কেউ বাস্তবায়ন করেছে, কেউ কেউ করেনি। কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হবে। সুতরাং এবার আমরা বলছি, অপেক্ষা করব তবুও বাস্তবায়ন করব।
১ জানুয়ারি থেকে ব্যাংকের শিল্প ঋণে সুদ হার ৯ শতাংশ করার কথা থাকলেও সেটা এপ্রিলে পিছিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সুদ হার ৯ শতাংশ এবং আমানতের সুদ ৬ শতাংশ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রথম থেকেই ছিল। কিন্তু প্রথম দিকে এটি আমরা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করব বলে ধারণা ছিল। কিন্তু আমরা পরে দেখলাম যে, শুধু আমরা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ঋণে সুদ হার ৯ শতাংশ বাস্তবায়ন করি তাহলে অনেক ইন্ডাস্ট্রি বাদ পড়ে যাবে, অনেক খাত বাদ পড়ে যাবে। এদেরকে বলা হবে তোমাদেরটা ম্যানুফ্যাকচারিং না, কবে বসিয়েছ, লাইসেন্স কই বিভিন্ন কথা-বার্তা বলবে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা বন্ধ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বললেন, যদি সফলতা পেতে চাও তাহলে সব ঋণ গ্রহীতাকে এ সুবিধা দাও। কোন সেক্টরে ঋণ নিলো এটা তার ব্যাপার। ঋণ গ্রহীতা যা-ই করবেন তাতেই দেশের লাভ হবে। ট্রেড করলেও দেশের লাভ হবে, একটি ইন্ডাস্ট্রি, সেলুন করলেও লাভ হবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন যে, সকল খাতেই এটা বাস্তবায়ন করতে হবে। সেজন্য কয়েক দিন সময় লাগবে।

