ইন্ডিয়া থেকে রোহিঙ্গা তাড়ানোর ঘোষণা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০৪ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৪:৫৬
মায়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ইন্ডিয়ায় কোনও জায়গা নেই। কোনও রকম রাখঢাক না করেই এ কথা জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। তার বক্তব্য, মায়ানমার থেকে পালিয়ে এসে জম্মুতে আশ্রয় নিয়েছেন বহু রোহিঙ্গা। তাদের এ দেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না। বরং যাচাই-বাছাই করে ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু হবে শীঘ্রই। খবর আনন্দবাজারের।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) কলকাতা থেকে প্রকাশিত গণমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) ইন্ডিয়া নিয়ন্ত্রীত কাশ্মীরের শ্রীনগরে সরকারি কর্মীদের নিয়ে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী একটি অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন জিতেন্দ্র সিংহ। সংশোধিত নাগরকিত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে আলোচনা চলাকালীন তিনি বলেন, ‘সংসদে বিল পাস হয়ে যাওয়ার দিন থেকেই জম্মু-কাশ্মীরে সিএএ চালু হয়ে গিয়েছে। এ নিয়ে কোনও যদি, কিন্তুর ব্যাপার নেই। এবার রোহিঙ্গাদের নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করবে সরকার।’
মায়ানমারে ধর্মীয় নিপীড়ণের শিকার হয়েই দেশ ছেড়েছেন রোহিঙ্গা মুসলিমরা। তাদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। ফাঁক ফোকর গলে ইন্ডিয়ায়ও ঢুকে পড়েছেন কিছু রোহিঙ্গা। দেশটির পশ্চিমবঙ্গ, বিহার পেরিয়ে তাদের একটা অংশ জম্মুতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে দাবি করেন জিতেন্দ্র সিংহ। হিন্দুত্ববাদী বিজেপির নেতা ও মোদি সরকারের কেন্দ্রীয় ওই মন্ত্রীর দাবি, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে শুধুমাত্র পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানে ধর্মীয় নিপীড়ণের শিকার হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান, শিখ এবং পার্সিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথাই বলা রয়েছে। মায়ানমার বা রোহিঙ্গাদের কোনও উল্লেখ নেই তাতে। তাই তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
জিতেন্দ্র সিংহ বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে। তাদের একটি তালিকা তৈরি করা হবে। প্রয়োজনে তৈরি করা হবে বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্রও। কারণ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে রোহিঙ্গাদর কোনও সুবিধা দেওয়ার কথা বলা নেই। পড়শি তিন দেশে ধর্মীয় নিপীড়ণের শিকার যে ছ’টি সম্প্রদায়কে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, রোহিঙ্গারা তার মধ্যে পড়ে না।’ বাংলা, বিহারের মতো একাধিক রাজ্য পেরিয়ে রোহিঙ্গারা জম্মু পৌঁছলেন কীভাবে, তাদের টিকিটের খরচই বা কে জোগাল এবং এর পেছনে কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা উচিত বলে মত জিতেন্দ্র সিংহের।
ইন্ডিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জম্মু এবং সাম্বা জেলায় এই ১৩ হাজার ৭০০ বিদেশি রয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন রোহিঙ্গা মুসলিম এবং বেশ কিছু বাংলাদেশি নাগরিকও। ২০১৬ সালের হিসাব দেখিয়ে বলা হয়েছে, তার আগের ৮ বছরেই ওই সংখ্যাটা প্রায় ৬ হাজার বেড়েছে। মূলত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এসে ভিড় করাতেই সংখ্যাটা এত বেড়ে গিয়েছে বলে দাবি বিজেপি, জম্মু-কাশ্মীর ন্যাশনাল প্যান্থার্স পার্টি (জেকেএনপিপি), বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি), রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) মতো একাধিক রাজনৈতিক কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের।

