ঢাবি ছাত্রীর ‘ধর্ষক’ চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার কীভাবে?
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০৮ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ২১ঃ১৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় মজনু নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে সিরিয়াল রেপিস্ট বা পেশাদার ধর্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে। তবে কীভাবে তারা নিশ্চিত হলো মজনুই ঢাবি ছাত্রীর ধর্ষক? এমন প্রশ্নে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিকটিমের (ধর্ষণের শিকার ছাত্রী) মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে মজনুকে গ্রেপ্তার করেছে তারা। বুধবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. ক. সারোয়ার বিন কাসেম এই তথ্য জানান।
এদিন ভোর রাত ৪টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর শ্যাওড়া রেলক্রসিং থেকে ‘ধর্ষক’ মজনু (৩০)কে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তবে এর আগে র্যাব আরও এক নারী ও পুরুষকে গ্রেপ্তার করে। তাদের সূত্র ধরেই গ্রেপ্তার করা হয় মজনুকে। সারোয়ার বিন কাসেম বলেন, ‘গত ৭ জানুয়ারি রাজধানীর কুরাতলা এলাকা থেকে ভিকটিমের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। ভিকটিমের মোবাইলটি খায়রুল ইসলাম (৩৮) নামে এক রিকশাচালকের কাছ থেকে উদ্ধার হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, সে মোবাইলটি অরুণা বিশ্বাস (৪৫) নামে শ্যাওড়ার এক নারীর কাছ থেকে পেয়েছে। মোবাইলটির ডিসপ্লে ভাঙা থাকায় অরুণা খায়রুলের কাছে মেরামতের জন্য দিয়েছিল। এরপর অরুণাকে এবং তারপর মজনুকে শ্যাওড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
এর আগে ধর্ষক মজনু ঘটনার পর মোবাইল বিক্রি করে বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে করে নরসিংদী চলে যায়। এরপর নরসিংদী থেকে সে মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) আবার ঢাকায় আসে। ঢাকায় এসে সে সারাদিন বনানী ছিল, রাতে শ্যাওড়া এলাকায় আসে। সেখান থেকেই ভোর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান সারোয়ার বিন কাসেম। তিনি বলেন, ‘মজনুর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়ায়। ১০ বছর আগে সে ঢাকায় আসে। বিয়ের পর তার স্ত্রী মারা যায়। এরপর থেকে সে ভাসমান বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুক নারীদের ধর্ষণ করে। সে ছিনতাই ও মাদকসেবী।’
র্যাব কর্মকর্তার দাবি, নিজেকে সিরিয়াল রেপিস্ট বলেও স্বীকার করেছে মজনু। মজনু যে ঢাবি ছাত্রীর ধর্ষক, তা নাকি ভিক্টিম নিজেই চিহ্নিত করেছে। এমন ভাষ্যও র্যাবের। তাছাড়া মজনুর একটি দাঁত ভাঙা। সেটিও তাকে চিহ্নিত করার ক্লু হিসেবে নেয়া হয়েছে বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সারোয়ার বিন কাসেম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত মজনু, খায়রুল ও অরুণাকে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষণিকা বাসে করে ওই ছাত্রী বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কুর্মিটোলা বাসস্টপেজে নামার পর তাকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি অনুসরণ করতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে ফুটপাতের ঝোপে নিয়ে
আড়াই ঘণ্টা আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এসময় ধর্ষক ওই ছাত্রীর নাম পরিচয় জানতেও চায় বারবার। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী জ্ঞান হারায় সেখানে। পরে রাত ১০টার দিকে জ্ঞান ফিরলে তিনি রিকশায় করে বান্ধবীর বাসায় যান। সেখান থেকে বান্ধবীসহ অন্য সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন।
এদিকে, ওই ধর্ষণের খবর জানাজানি হলে পরেরদিন সোমবার (৬ জানুয়ারি) ঢাবির শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে ফেটে পড়েন। রাজধানীসহ দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এদিন সকালে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে ওই ছাত্রীর বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার করা হলো সন্দেহভাজন ধর্ষককে।

