রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ধর্ষিত ৪ নারী-শিশু হাসপাতালে
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১১ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৫:১৬
রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের পর ঢাকাসহ সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও কমেনি ধর্ষণের বিস্তৃতি। গত সপ্তাহের আলোচিত ওই ধর্ষণের পর বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকার কামরাঙ্গীর চরে ১৩ বছরের এক কিশোরী গণধর্ষের শিকার হয়। অবশ্য এই দুটি ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন ধর্ষকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণের ঘটনা বন্ধ করা যায়নি। বরং পরিধি আরও বেড়েছে বলেই মনে হচ্ছে।
কামরাঙ্গীর চরের কিশোরীসহ শুক্রবার ভোর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ধর্ষণের শিকার চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে দু’জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে ভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।শনিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে এ তথ্য জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন।
সাংবাদিকদের ঢামেক পরিচালক বলেন, কামরাঙ্গীর চর ও সবুজবাগের দুই শিশু ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। একাধিক ব্যক্তি জড়িত কিনা ডিএন পরীক্ষার পর তা জানা যাবে। তবে তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো আছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন বলেন, এটা সামাজিক অবক্ষয়। শিশু আর প্রতিবন্ধী নারীরাই এখন ধর্ষণের শিকার হচ্ছে বেশি। এটা রোধ করতে এখনই নানামুখী প্রচেষ্টা দরকার।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর রামপুরায় একই ব্যক্তি দুই কর্মজীবী নারীকে ধর্ষণ করে। শনিবার (১১ জানুয়ারি) ভোরে দুজনকে ঢামেক ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। রামপুরা থানার (এসআই) আক্তারুজ্জামান মুন্সি জানান, মেয়ে দু’টির একজনের বয়স (১৯) আরেকজনের বয়স (১৮)। এ ঘটনায় পুলিশ মুশফিকুল আলম (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
এর আগে গত ৯ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার রাতে কামরাঙ্গীর চর এলাকায় গণধর্ষণের শিকার হয় (১৩) বছরের এক কিশোরী। ১০ জানুয়ারি ভোরে তাকে ঢামেক হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। ওই রাতেই ভাটারা এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয় (১২) বছরের এক শিশু। শনিবার ভোরে তাকেও ঢামেকের ওসিসিতে ভর্তি করান পরিবারের সদস্যরা।
এর আগে ১ জানুয়ারি সবুজবাগে ধর্ষেণের শিকার হয় এক শিশু। গেল ৪ জানুয়ারি শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এর পর ৫ জানুয়ারি রাতে কুর্মিটোলায় ধর্ষণের শিকার হয় ঢাবির দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী, যা প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

