স্কুলছাত্র আবরারের মৃত্যু: প্রথম আলো সম্পাদকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১৬ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ২১ঃ১০
দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ও পত্রিকাটির সহযোগী প্রকাশনা কিশোর আলো’র সম্পাদক আনিসুল হকসহ ১০জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার একটি আদালত। ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে স্কুলছাত্র নাঈমুল আবরারের বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে নিহত হওয়ার মামলায় বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) এ আদেশ দিয়েছে আদালত। প্রথম আলোর পক্ষের একজন আইনজীবী আদালতের এ আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত বছরের ১ নভেম্বর ঢাকার রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজে প্রথম আলোর কিশোর ম্যাগাজিন ‘কিশোর আলো’র বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছিলো। ওই অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিলো স্কুলটির নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈমুল আবরার। ঘটনার পরদিন তার বাবা মজিবুর রহমান মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন, যাতে তার সন্তানকে অবহেলা জনিত হত্যার অভিযোগ আনেন প্রথম আলো সম্পাদকসহ অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির বিরুদ্ধে।
এরপর সরকারের একজন মন্ত্রী এ বিষয়ে মন্তব্য করার পর ৫ নভেম্বর প্রথম আলোতে কিশোর আলো সম্পাদকের একটি বক্তব্য প্রকাশিত হয়। তাতে কিশোর আলো সম্পাদক জানান যে, অনুষ্ঠানে প্রত্যেক দর্শনার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিলো। পুলিশ, র্যাব ও দুটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার কর্মীরা সেখানে ছিলেন। বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে নাঈমুল আবরার কেমন করে এলো, সেখানে কোনো ত্রুটি ছিলো কি-না, তা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে কিশোর আলো সহায়তা করছে।
এদিকে আবরারের বাবার দায়ের করা মামলার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয় আদালত। বৃহস্পতিবার আদালতে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ওই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়, যাতে মতিউর রহমান ও আনিসুল হকসহ ১০জনকে আসামি করা হয়। সেটি আমলে নিয়ে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের অন্যতম বিচারক কায়সারুল ইসলাম ১০জনের বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তরি পরোয়ানা জারি করেছে।
তারা হলেন- প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক, কবির বকুল, শুভাশিস প্রামাণিক, মহিতুল আলম, শাহ পরাণ তুষার, জসীম উদ্দিন, মোশাররফ হোসেন, সুজন ও কামরুল হাওলাদার।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আড়াই মাস পার হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার সকালে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আলিম। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি ছিল। গাফিলতির কারণেই বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে নাঈমুল আবরার রাহাতের মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যবস্থাপনার সাথে যারা জড়িত ছিল, তাদের মধ্যে ১০ জনের নামেই প্রতিবেদন দিয়েছি।
এ মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক আসিফ পরে গণমাধ্যমকে বলেন, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়েছিল। এ ঘটনায় আর কারা জড়িত এবং কার কী দায় রয়েছে তা তদন্ত করার জন্য আমরা আবেদন জানিয়েছিলাম। স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। যে ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল সেই ধারাতেই কিশোর আলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ১০ জনকে দায়ী করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। আমরা এই প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট।

