সিইসি’র পদত্যাগ দাবি হিন্দু মহাজোটের: ভোট বর্জন করে রাজপথে অঞ্জলি দেওয়ার ঘোষণা

সিইসি’র পদত্যাগ দাবি হিন্দু মহাজোটের: ভোট বর্জন করে রাজপথে অঞ্জলি দেওয়ার ঘোষণা

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১৭ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৮ঃ১০

নির্বাচন কমিশন সরস্বতী পূজার দিনে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, ৩০ জানুয়ারিই যদি ভোটের আয়োজন হয়, তাহলে সেদিন সকাল ৮টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সরস্বতী পূজা করে রাজপথে অঞ্জলি নিয়ে কালো পতাকা মিছিল করা হবে। পূজার দিনে ভোটের তারিখ রাখার মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন হিন্দু সম্প্রদায়ের ‘আস্থা হারিয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেছেন হিন্দু মহাজোটের মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

পলাশ কান্তি দে বলেন, আমরা ৩০ জানুয়ারির ভোট বর্জন করছি। কোনো হিন্দু ভাই ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। কোনো প্রচারে অংশ নেবেন না। আমরা ৩০ তারিখ সকাল ৮টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঘটপূজা করে রাজপথে অঞ্জলি নেব এবং কালো পতাকা মিছিল করব।

ভোটের তারিখ পেছানোর দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী অনশনে বসেছেন। এ বিষয়ে এক আইনজীবীর করা রিট হাইকোর্টে খারিজ হয়ে গেলেও তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন। আর নির্বাচন কমিশন বলে আসছে, পূজা ও ভোট একসঙ্গে হওয়াতে কোনো সমস্যা তারা দেখছেন না।

তবে ইসির এমন ভূমিকার কারণে তাদের প্রতি আস্থা হারানোর কথা জানিয়ে হিন্দু মহাজোটের মুখপাত্র বলেন, যারা একটি গোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চায়, তারা সাংবিধানিক কোনো পদে থাকতে পারে না। এই কমিশনের প্রতি আমাদের আর আস্থা নেই। আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগ দাবি করছি। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, আমরা সকল রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থী ও কাউন্সিলরদের অনুরোধ করছি, আমাদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করার জন্য।

এই কমিশন দিয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট আশা করা যায় না মন্তব্য করে পলাশ বলেন, যারা একটি বৃহৎ সম্প্রদায়কে ভোট দান থেকে বিরত রাখতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য ভালো না। তারা মুজিববর্ষের বাংলাদেশকে বিতর্কিত করতে চায়।

ইসি কেন হার্ডলাইনে?: ৩০ জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করার দাবি তুলে হিন্দু মহাজোটের সমন্বয়কারী শ্যামল কুমার রায় বলেন, ১০ জানুয়ারি নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরপর ১৫ দিন প্রচারের সময় তো আছে। এ সময় পার হওয়ার পর ২৪ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ যেকোনো দিন নির্বাচন করা যায়। সুতরাং নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করা যেতে পারে। কিন্তু পূজার তারিখ পরিবর্তন করা সম্ভব না।

নির্বাচন কমিশনের এই অনঢ় অবস্থান কেন- সেই প্রশ্ন তুলে শ্যামল কুমার বলেন, নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন শুরু হয়েছে। মেয়র প্রার্থী সকলেই তারিখ পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলেছেন। সেতুমন্ত্রীও বলেছেন। এখন যেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্ন হওয়ার মত পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে, ধর্মীয় সেন্টিমেন্টের ব্যাপার। এখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এতো হার্ডলাইনে কেন? নির্বাচনের তারিখ কী আসমানি বিধান নাকি যে- ওই তারিখেই হতে হবে। অবশ্যই পরিবর্তন করা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- হিন্দু মহাজোটের সহ-সভাপতি ডিসি রায়, রণজিত মৃধা, যুগ্ম মহাসচিব সমীর সরকার, অখিল মণ্ডল, ফণি ভূষণ হালদারস প্রমুখ।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading