‘রাখাইনে অপরাধের প্রমাণ আইসিজের আদেশ’

‘রাখাইনে অপরাধের প্রমাণ আইসিজের আদেশ’

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ।০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০ । আপডেট ১৭ঃ৪০

গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার মামলায় দেওয়া আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতের (আইসিজে) অন্তর্বর্তীকালীন আদেশকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। এর ফলে অপরাধ সংঘটনের বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) আইসিসির কৌঁসুলি অফিসের ডিরেক্টর ফাকিসো মোকোচোকো ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। গত নভেম্বর থেকে তাদের তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ফাকিসো মোকোচোকো বলেন, ‘আমরা এখন বলতে পারবো যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। মিয়ানমার নিজেই অপরাধের বিষয়টি স্বীকার করেছে। এখন আমাদের কাছে প্রশ্ন হচ্ছে—কে অপরাধ করেছে, কে অপরাধ করতে সহায়তা করেছে? অপরাধ ব্যক্তি করে। যদি কোনও নির্যাতন হয়ে থাকে, সেটি ব্যক্তি করে, কোনও হত্যা হলে সেটি ব্যক্তি করে, কোনও ধর্ষণ হলে সেটিও ব্যক্তি করে। আইসিসির কাছে প্রশ্ন হচ্ছে—ওই ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা কারা? আমরা প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছি যাতে নির্দিষ্টভাবে বলতে পারি কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা অপরাধ করেছে।’ তিনি বলেন, আইসিজেতে মিয়ানমার বলেছে, কিছু জেনারেল ও অন্যরা হয়তো অপরাধ করেছে এবং তাদের বিচার করা হবে। আইসিসি যদি এ বিষয়ে কোনও তথ্য পায় তবে সেটি তারা বিবেচনায় নেবে বলে জানান তিনি।

আইসিসির তদন্তের বিষয়ে ফাকিসো মোকোচোকো বলেন, ‘গত নভেম্বর থেকে তাদের তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে যতদিন না যথেষ্ট নিশ্চিত প্রমাণ সংগ্রহ না করা হচ্ছে ততদিন এ তদন্ত চলবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই তদন্ত প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীন হবে। তদন্তকারীরা বাংলাদেশে আসবে, ক্যাম্পে যাবে, ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলবে, সাক্ষীদের প্রস্তুত করবে এবং তাদের সঙ্গে কী হয়েছিল, তা খুঁজে বের করবে। আমরা আশা করি এর শেষ পরিণতি হবে রোহিঙ্গাদের জন্য বিচার নিশ্চিত করা।’ কী ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রমাণ সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলা, ডকুমেন্ট ও ফুটেজসহ অন্য ধরনের প্রমাণ। এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেনি আইসিসি কৌঁসুলি। তখনই কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হবে, যখন তার বিরুদ্ধে জোরালো প্রমাণ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।’

তদন্ত প্রক্রিয়া গোপনীয়ভাবে করা হবে জানিয়ে এই কৌঁসুলি বলেন, ‘কেউ যদি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তবে আমরা অনুরোধ করবো— যোগাযোগের বিষয়টি যেন ওই ব্যক্তি গোপন রাখেন। যারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, তাদের সুরক্ষা দেওয়া হবে। কেউ যদি হুমকির সম্মুখীন হন তবে সঙ্গে সঙ্গে যেন ওই ব্যক্তি কৌঁসুলি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’ সাক্ষীকে হুমকি বা ঘুষ দেওয়া বা তাকে সত্যি কথা বলতে বাধা দেওয়া অপরাধ এবং এর তদন্ত ও বিচার হবেও বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করে আইসিসির কৌঁসুলি অফিসের ডিরেক্টর বলেন, ‘সরকার তদন্তে ও প্রমাণ সংগ্রহে সহযোগিতা করছে। তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সহায়তা করবে।’ মিয়ানমারের কাছ থেকে কোনও সহযোগিতা পাচ্ছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু তারা কোনও উত্তর দেয়নি। তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। তবে যেটাই হোক, মিয়ানমারের সহযোগিতাসহ বা ছাড়াই এই তদন্ত সম্পন্ন হবে।’ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে এই তদন্তের কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা বাংলাদেশ সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলেছি, তারা তাদের মতো করে প্রত্যাবাসনের জন্য আলোচনা অব্যাহত রাখুক এবং প্রত্যাবাসন হোক বা না হোক, এই তদন্ত চলতে থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা একটি লম্বা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তার সুবিচার নিশ্চিত করা।’

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading