যুবরা বিশ্বকাপ জিতে দেখিয়ে দাও : মিরাজ
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ।০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ । আপডেট ১৮ঃ১৫
চার বছর আগে অল্পের জন্য ভেঙে গিয়েছিল মেহেদী হাসান মিরাজের স্বপ্ন। সেবার আইসিসি অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের শেষ চারের লড়াইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে যাওয়ায় হৃদয় ভেঙেছিল বাংলাদেশের। চোখের জলে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল মেহেদী হাসানদের। চার বছর পরে মেহেদীদের স্বপ্নপূরণ করার থেকে ঠিক এক কদম দূরে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। রবিবার পোচেফস্ট্রুমে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে আকবর আলীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইন্ডিয়া। ফাইনালের বল গড়ানোর আগে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছেন, ‘আকবর, মাহমুদুল হাসান জয়দের একটাই কথা বলব। আমরা যে কাজটা করে আসতে পারিনি, তোমরা সেটা করে দেখাও। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাও। আমরা সবাই তোমাদের দিকে তাকিয়ে।’
২০১৬ সালের যুব বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পাহাড়প্রমাণ চাপ নিয়ে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে খেলা। সেমিফাইনালে পৌঁছেছে ‘বাংলার বাঘ’রা। আকাশে উড়তে থাকে প্রত্যাশার ফানুস। মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসানের মতো সিনিয়র ক্রিকেটাররা শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মেহেদীদের।
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ হেরে যাওয়ায় সেই ‘ফানুস’ চুপসে যায়। সেদিনের ক্ষত এখনও শুখায়নি মেহেদীর। তিনি বলেছেন, ‘সেমিফাইনালে হেরে যাওয়ায় খুব আঘাত পেয়েছিলাম। ওই কষ্টটা কাটিয়ে উঠতে অনেক দিন লেগেছিল আমার। অভিজ্ঞতা থেকে জয়দের বলছি, দারুণ সুযোগ তোমাদের সামনে। জানপ্রাণ লড়িয়ে দাও মাঠে।’
সেবারের যুব বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়েছিল বাংলাদেশ। তার আগে যুব বিশ্বকাপে এত ভাল পারফরম্যান্স করতে পারেনি বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের সেরা প্লেয়ার নির্বাচিত হয়েছিলেন মিরাজ। যুব বিশ্বকাপে নজর কাড়ায় জাতীয় দলের দরজা খুলে যায় তাঁর সামনে। মেহেদী বলেছেন, ‘যুব বিশ্বকাপ এমন একটা টুর্নামেন্ট, যেখানে ভাল পারফরম্যান্স করলে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ এসে যায়। আমার ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছিল।’
প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার দেশে অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের খেলা দেখেছেন মেহেদী। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘দলটা একটা টিম হিসেবে খেলছে। সেমিফাইনালে জয় সেঞ্চুরি করেছে ঠিকই, কিন্তু যখন যা রানের দরকার, বাকিরাও তা করে দিয়েছে। এটাই তো ভাল দিক।’
কিউইদের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে মাহমুদুল হাসান জয় সেঞ্চুরি করেন। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে ‘ডানহাতি সাকিব’ বলে ডাকা হচ্ছে। স্ট্রাইক রোটেট করেছেন। মিরাজ বলছেন, ‘শুধু এক বা দু’জনের উপরে ভরসা করে কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে ফাইনাল জেতা সম্ভব নয়। এই ভারত খুবই শক্তিশালী দল। টিম গেমের উপরে ভরসা করে যেমন খেলে এসেছে, সেই খেলাই খেলতে হবে ফাইনালে।’
আগামীকাল (৯ ফেব্রুয়ারি) ফাইনালে বাংলাদেশের রণনীতি কী হওয়া উচিৎ? মেহেদী বলছেন, ‘অন্তত একজন পেসারকে জ্বলে উঠতেই হবে। স্পিনার দিয়ে রান আটকে রাখতে হবে। আর ব্যাট করার সময়ে মিডল অর্ডারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে।’
ইদানিং সীমিত ওভারের ম্যাচে দুই প্রতিবেশী দেশের দেখা হওয়া মানেই বারুদে ঠাসা খেলা। রবিবারও একটা উত্তেজক ম্যাচ হবে বলেই মনে করছেন বাংলাদেশ যুব দলের সাবেক অধিনায়ক। আর এই ম্যাচে যদি বাংলাদেশ জয় পেয়ে শিরোপা অর্জন করতে পারে তাহলে চার বছর ধরে বয়ে বেড়ানো দুঃসহ কষ্ট ভুলবেন মিরাজ।

