আন্ডারওয়ার্ল্ডে রাজত্ব করতে দেশে ফেরে শাকিল: র্যাব
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ । আপডেট ১৯ঃ৩৯
ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পরপরই রাজধানী ঢাকার স্থবির হওয়া আন্ডারওয়ার্ল্ডে রাজত্ব করতেই দুবাই থেকে দেশে ফিরেছিল শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সহযোগী মাজহারুল ইসলাম ওরফে শাকিল ওরফে শাকিল মাজহার। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন র্যাবের গোয়েন্দা, আইন ও লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম।
এদিন ভোর ৫টা ১০ মিনিটে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাকিলকে (৩৫) আটক করে র্যাব। এসময় তার কাছ থেকে ২টি বিদেশি পিস্তল ও ২টি ম্যাগজিন ও ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, শাকিল চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুবাই থেকে বাংলাদেশে আসেন। তার দেশে আসার উদ্দেশ্য ছিল শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের নির্দেশ ও সহযোগিতায় বাংলাদেশে তার সন্ত্রাসী কার্যক্রম নতুন করে প্রতিষ্ঠা করা। ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের নেতৃত্ব নেওয়া।
এই র্যাব কর্মকর্তার দাবি, দেশে ফিরে শাকিল রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তির উদ্দেশ্য ছিল হাসপাতালে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া। র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক বলেন, শনিবার ভোর ৫টার দিকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শাকিলকে আটক করা হয়। শাকিল একটি সিএনজিতে করে যাচ্ছিল। চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি হিসেবে তাকে তল্লাশি করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে দেখা যায় সে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সহযোগী মাজহারুল ইসলাম শাকিল। তিনি জানান, ২০১৬ সালের জুন মাসে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সম্পাদক রাজীব হত্যার এজাহারে নাম আসার চারদিন পরে সে চীনে চলে যায়। ২০১৭ সাল পর্যন্ত সে চীনে বসবাস করে এবং কার্গো সার্ভিসে কাজ করে। ২০১৮ সালে চীন থেকে দুবাই যায়। গত জানুয়ারি পর্যন্ত দুবাইয়ে ছিল সে। আর সেখানেই জিসানের সঙ্গে তার পরিচয়।
অবশ্য এর আগে শাকিলের পরিবার দাবি করেছিল, শাকিলকে আগেই হাসপাতাল থেকে র্যাব তুলে নিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান গ্রেফতার হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, আমরা ইন্টারপোলের মাধ্যমে জানতে পেরেছি- জিসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য যে প্রক্রিয়াগুলো রয়েছে তা চলমান।

