সীমান্তে মৃত্যুর পরিমাণ ফিফটি-ফিফটি: শ্রিংলা
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০২ মার্চ ২০২০ । আপডেট ২০ঃ১৫
আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং ঘনবসতিপূর্ণ ভোগলিক চরিত্রকে সীমান্তে প্রাণহানির ‘মূল কারণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে ইন্ডিয়ার পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, এসব কারণে ইন্ডিয়ানরাও মরছে। তার ভাষায়, সীমান্তে মৃত্যু কেবল বাংলাদেশিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, একই সংখ্যায় ইন্ডিয়ানরাও মৃত্যু হয়। যদিও সেই পরিসংখ্যান আপনাদের এখানে প্রতিফলিত হয় না। আমার হাতে থাকা পরিসংখ্যান বলছে, সীমান্তে মৃত্যুর পরিমাণ বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার জন্য ফিফটি-ফিফটি।
সোমবার (২ মার্চ) সকালে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের প্রশ্নে শ্রিংলার এমন মন্তব্য আসে, যিনি এক সময় বাংলাদেশে ইন্ডিয়ার হাই কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন।
দুই দেশের আলোচনায় ইন্ডিয়ার তরফ থেকে সীমান্তে হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতি এসেছে বহুবার। ২০১৮ সালে মৃত্যুর ঘটনা কিছুটা কমলেও তা তিন গুণ বেড়েছে ২০১৯ সালে। ইন্ডিয়ান পররাষ্ট্র সচিব বলছেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সীমান্ত মানে না, দুই পারেই অপরাধ ঘটে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর অস্ত্রধারীদের আক্রমণের অনেক ঘটনাও অতীতে ঘটেছে। তিনি তথ্য দেন, কেবল ২০১৯ সালেই সীমান্তে ১২ জন ইন্ডিয়ান নাগরিক নিহত, চারজন আহত হয়েছেন। সেইসঙ্গে ইন্ডিয়ান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন নিহত ও ৮৩ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া সীমান্তে ইন্ডিয়ান সীমান্তরক্ষা বাহিনী- বিএসএফের গুলিতে ৩৭ জন এবং তাদের শারীরিক নির্যাতনের কারণে ছয়জনসহ মোট ৪৩ জনের প্রাণ গেছে। আর ফেব্রুয়ারিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, আগের দেড় মাসে সীমান্তে ১১ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
শ্রিংলা বলেন, সীমান্তে একজন মানুষও যদি মারা যায়, সেজন্য ইন্ডিয়া ‘সত্যি অনুতপ্ত’। এর পেছনে একটি বড় কারণ দুই পারে ঘনবসতি এবং কঠিন ভৌগোলিক অঞ্চল। আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে। তাদের উপর আক্রমণের অনেক ঘটনাও রয়েছে।
বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার মধ্যে সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি। এর মধ্যে যে ১৬৫ কিলোমিটার সীমান্ত খোলা রয়েছে, সেখানেও বেড়া দেওয়ার প্রস্তাব করে ইন্ডিয়ার পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমরা চাই সীমান্তে জমজমাট অনেক কর্মকাণ্ড চলবে, তবে সেটা বৈধভাবে, কোনোমতেই অবৈধভাবে নয়।

