পুঁজিবাজারের সমস্যার সমাধান সরকারের হাতে নেই: অর্থমন্ত্রী

পুঁজিবাজারের সমস্যার সমাধান সরকারের হাতে নেই: অর্থমন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০৯ মার্চ ২০২০ । আপডেট ১২ঃ১৮

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, পুঁজিবাজারে সমস্যার সমাধান সরকার করতে পারবে না, তা বাজার সংশ্লিষ্টদেরই করতে হবে। সরকার নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরও পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতনের প্রেক্ষাপটে রোববার এক গোলটেবিল আলোচনায় একথা বলেন তিনি।

ঢাকা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি কেমন চলছে’ শীর্ষক এই আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করে ডিবিসি নিউজ ও ডেইলি অবজারভার।

জানুয়ারিতে বড় ধসের পর পুঁজিবাজার জাগাতে গত ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোকে ‘বিশেষ তহবিল’ গঠনের সুযোগ দেওয়ার পর পুঁজিবাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও ক’দিন পরই আবার দরপতনের ধারায় ফিরে যায়, যাতে উদ্বিগ্ন বাজার বিশ্লেষকরা।

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, “পুঁজিবাজারের সমাধান সংশ্লিষ্টদেরই করতে হবে। সরকার এর সমাধান করতে পারবে না।“আমার অর্থনীতি অনেক শক্তিশালী, কিন্তু পুঁজিবাজারে টনটন, এটা তো হতে পারে না। এর কারণগুলো আপনাদের খুঁজে বের করতে হবে।”

তবে পুঁজিবাজার শক্তিশালী করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে নেবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। “পুঁজিবাজারের সাথে অনেক মানুষ সম্পৃক্ত। সুতরাং এই পুঁজিবাজারকে বাদ দিয়ে সরকার চিন্তা করে না। পুঁজিবাজারকে আমাদের সাথে দেখতে চাই।”

অনুষ্ঠানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক রকিবুর রহমান পুঁজিবাজারের উপর ব্যাংক খাতের নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থা যদি ভালো না থাকে, পুঁজিবাজার ভালো থাকবে না।

ব্যাংক খাতে অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে রকিবুর বলেন, “আমি একটা দুইটা ব্যাংকের কথা বলব। প্রথম প্রজন্মের ব্যাংকের পরিশোধিত মুলধন ৮ কোটি টাকা। এরমধ্যে ৪ কোটি টাকা পাবলিক, আর ৪ কোটি টাকা ব্যাংকের মালিকেরা দিছেন। “ওই মালিকরা আবার বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নিয়ে দিয়েছেন। ২০০০ সালে ওই ব্যাংকের পেইডআপ ক্যাপিটাল (পরিশোধিত মূলধন) হয়েছে ৪৪১ কোটি টাকা। এতে উনারা কিন্তু টাকা-টুকা দেন নাই।”

কীভাবে ৪৪১ কোটি টাকা হয়েছে- তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “উনারা রাইট শেয়ার আর বোনাস শেয়ার দিয়ে তাদের পেইডআপ ক্যাপিটাল বাড়িয়েছেন। তখন কিন্তু আমরা শেয়ার কিনে রাখছি। “২০১০ সালে যখন ১০ টাকার শেয়ারের দাম উঠছে ১৮০ টাকা। তখন উনাদের হাতে থাকা সব শেয়ার বেচে দিয়েচেন। ওই ১৮০ টাকার শেয়ারের দাম এখন মাত্র ৭ টাকা ৫০ পয়সা।”

রকিবুর বলেন, “উনারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাইয়া যাইয়া দাবি করেন, পূরণ করে নিয়ে আসেন। উনাদের লাস্ট দাবি হচ্ছে, ওনাদের আন্ডা-বাচ্চা, নাতি-নাতনিসহ যেন পার্মানেন্ট পরিচালক থাকতে পারেন।” অর্থমন্ত্রী বলেন, “একে অপরের সমালোচনা করলে হবে না। আমরা একে অপরের অংশ। আমরা কেউ আলাদা নই। আমার মনে হয়, সেইভাবে এগোলে আমরা কাজটা করতে পারব।”

আলোচনায় অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেশের অর্থনীতি এখন ভালো হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। বিনিয়োগ, ব্যাংকিং খাত ও রাজস্ব আহরণে দুর্বলতার দিকটি তুলে ধরে তিনি বলেন, কর জিডিপির অনুপাত ৯ শতাংশের ঘরে থাকলে লক্ষ্য অর্জন হবে না।

রপ্তানি বহুমূখীকরণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে আহসান মনসুর বলেন, রপ্তানির ৮৬ শতাংশই পোশাক খাতের। একটি মাত্র খাতের উপর নির্ভরতা কাটাতে হবে।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকার ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্রে যাওয়ার যে লক্ষ্য গ্রহণ করেছে, তা ভালভাবেই সম্ভব। প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে মাথা পিছু আয় বাড়াতে পারলে ২০৪১ সালে ১৬ হাজার ডলার হবে। কিন্তু এ জন্য বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য বিনিয়োগ ৪৪ শতাংশে নিয়ে যেতে হবে।

পাশাপাশি বৈষম্য কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়ে অন্তর্ভূক্তিমুলক অর্থনীতির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দেন সিপিডির সাবেক এই নির্বাহী পরিচালক। এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, “ব্যাংক ঋণের সুদ হার ৯ শতাংশ বেঁধে দেওয়ার পর উদ্যোক্তাদের মধ্যে কিছু সমালোচনা থাকলেও দেশের ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মানুষ খুশি।”

বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিয়ে যাওয়ার জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরির উপর জোর দেন তিনি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ও ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading