ইসির খামখেয়ালিপনা
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ২০ মার্চ ২০২০ । আপডেট ২০:৩০
মোহাম্মদ শিহাব: অতি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ২৫ শতাংশের মধ্যে। এছাড়াও সম্প্রতি কয়েকটি উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা, কর্ত-বিতর্ক আছে। বিতর্ক আছে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও কর্মততপরা নিয়েও। এর মধ্যে বিশ্ব কাঁপছে নভেলা করোনাভাইরাসের মতো প্রাণঘাতি এক মহামারীতে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত পৃথিবীর ১৬০টি দেশের মধ্যে একটি বাংলাদেশ। দেশে শুক্রবার পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের শরীরে করোনাভাইরাসে জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ তারা কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত। এই ২০ জনের একজন মারা গেছেন কয়েকদিন আগে। আরেকজন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হাসপাতালে চিকিৎসাীন। নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে পরিবারের লোকজন পর্যন্ত তার দাফন-কাফনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় রীতি-নীতি প্রতিপালন ছাড়াই কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ব্যক্তির লাশ সমাহিত করা হয়। কাজেই নভেল করোনার বিস্তার রোধে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে সরকার বন্ধ ঘোষণা করেছে। একইভাবে সব বিনোদন কেন্দ্র, পর্যটন কেন্দ্র, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এমনকি লকসমাগোম হতে পারে এমন সভা-সমাবেশ, মাহফিল, জনসভা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুপিমকোর্ট এক আদেশে মামলার শুনানিতে আসামিদের আদালতে হাজির না করার নির্দেশনা দিয়েছে। সম্ভব হলে মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যারা বিদেশ থেকে আসছেন তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক বা হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। সরকারের নির্দেশ অমান্য করলে অর্থদণ্ড দেয়া হচ্ছে বিদেশ ফেরতদের।
এছাড়া মাদারীপুরের শিবচর উপজেলাকে লকডাউন করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে পুরো মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। মসজিদে নামাজ পড়তে না গিয়ে ঘরে নামাজ পড়ার জন্যও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে মুসল্লিদের।
এসবের উদ্দেশ্য হচ্ছে- করোনাভাইরাসের মহামারী রোধ করা। কারণ, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে আনা রাষ্ট্র তথা সরকারের জন্য কষ্ট সাধ্য হয়ে যেতে পারে। তাই সরকার চাচ্ছে, করোনার সংক্রামণ রোধ করতে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
কারণ, ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ও জনমনে আতঙ্কের মধ্যে শনিবার (২১ মার্চ) ঢাকা-১০সহ তিনটি সংসদীয় আসনে উপ-নির্বাচন হচ্ছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর শত সদস্য ঢাকা টিটার্স ট্রেনিং কলেজ কেন্দ্র থেকে ইভিএম ও নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ করেন। করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে এমন ভোটগ্রহণের তোড়জোড় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে পড়েছে ইসি। কিন্তু তা গুরুত্ব দিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন।
শুক্রবার রিটার্নিং অফিসার ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহতাবউদ্দিন বলেন, সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে ভোটের। নির্বাচনী সামগ্রী কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে। নির্বাচন কর্মকর্তাদের করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে হাত ধোয়া, মাস্ক পরার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সামগ্রী বিতরণকালেও আমরা সচেতন ছিলাম, জনসমাগম না করেই বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়। ভোটের দিনের জন্যও কেন্দ্র-ভোটকক্ষ ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার, টিস্যু ও অন্যান্য সামগ্রী রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জনের তত্তাবধানে স্বাস্থ্যকর্মীরাও থাকবেন নির্বাচনী এলাকায়। স্বাস্থ্য সচেতনতার কেন্দ্রে কেন্দ্রে করোনাভাইরাস মোকাবিলা সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত ব্যানার থাকবে বলে জানান তিনি।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হবে এখানে। একইদিন গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ সংসদীয় আসনে উপ-নির্বাচন হবে। এ দুই আসনে ব্যালট পেপারে ভোট হবে। ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান জানান, সব নির্বাচনী এলাকায় করোনাভাইস সংক্রমণ রোধের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা রয়েছে।
নভেল করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ রোধে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সমাবেশ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে শনিবারের তিনটি উপনির্বাচন করায় অনড় রয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। এ নিয়ে কমিশনের যুক্তি তুলে ধরে ইসি সচিব মো. আলমগীর বৃহস্পতিবার বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ভোটার উপস্থিতি কম হবে ধরে নিয়েই আমরা শনিবারের নির্বাচন করছি। চট্টগ্রামে ভোট নিয়ে শনিবারই সিদ্ধান্ত হবে।
স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের আহ্বান আওয়ামী লীগ-বিএনপির: আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, আমি সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে কলাবাগান লেক সার্কাস এলাকায় নিজ কেন্দ্রে ভোট দেব। এর আগে সকালে ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভোট দেবেন, আমি সেখান থেকে নিজের কেন্দ্রে ভোট দিতে আসব। এ প্রার্থী জানান, নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রের ভেতরে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখবেন। কেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীর পক্ষ থেকেও হাত ধোয়ার সব ব্যবস্থা থাকবে। সচেতনতার সঙ্গে সার্বিক প্রস্তুতি আমাদের। সবাই যেন স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলি।
বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম জানান, করোনাভাইরাস আতঙ্ক উপেক্ষা করে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে, সেক্ষেত্রে ইসি যেন যার ভোট তার দেওয়ার ব্যবস্থা রাখে। একজনের ভোট যদি অন্যজন দিয়ে দেন তাহলে গণতন্ত্রের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, আমরা প্রচারণা করেছি। ইসি ভোট স্থগিত করেনি, আমার দল বিএনপি ভোট বর্জন করেনি। আমিও তাই ভোটে থাকছি। এখনও জনজীবন স্থবির হয়নি। সেক্ষেত্রে সচেতন ও সতর্কভাবে নাগরিকদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাই। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে হাত ধুয়ে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান রবিউল। তিনি আরও বলেন, ইসির মতো আমিও বলছি, আপনারা কেন্দ্রে আসুন, হাত ধুয়ে ভোট দেবেন। আবার ভোট দিয়ে হাত ধুয়ে বাড়ি ফিরবেন।
ইভিএমে ঝুঁকি: নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ঢাকা-১০ আসনসহ তিনটি সংসদীয় এলাকায় ইভিএমে শনিবার (২১ মার্চ) ভোটের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যায়।
শুক্রবার করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে আইইডিসিআরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ইভিএম সিস্টেম যদি ব্যবহার করা হয়, একই জায়গায় অনেক ব্যক্তি টাচ করলে এটাতে অবশ্যই ঝুঁকি আছে। অতি সংক্রামক নভেল করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ঘটায়, ছড়ায় মূলত হাঁচি-কাশি ও স্পর্শের মধ্য দিয়ে।
জনসমাগমে এ রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে বলে সব ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা অনুষ্ঠান স্থগিত করার পাশাপাশি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও কাটছাঁট করে মূলত ভিডিওর মাধ্যমে প্রচার হয়েছে। এর মধ্যেই শনিবার ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এর পর আগামী ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ আরও দুটি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী।
শনিবার যে তিন আসন ভোট হচ্ছে এর মধ্যে ঢাকায় ভোটগ্রহণ হবে ইভিএমে; সেখানে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১২ হাজার ২৮১ জন। বাকি দুই আসনে ভোট হবে ব্যালটে।
ইভিএমে ভোটারের আঙুলের ছাপ মেলাতে হয় বলে অনেকেই ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কার কথা বলে আসছিলেন। নির্বাচন পেছানোরও দাবি ছিল বিভিন্ন মহলের। কিন্তু ইসি সেই দাবির প্রতি গুরুত্ব দেয়নি।
যদিও বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ রোগে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২০ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে একজনের। এই অবস্থার মধ্যেও নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. আলমগীর বলেছিলেন, ভোটকেন্দ্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার থাকবে। ভোট দেওয়ার আগে-পরে এটা ব্যবহার করবেন। হাত ধুয়ে ভোট দেবেন। ভোট দিয়ে আবার হাত ধুয়ে ফেলবেন।
সংক্রমণ এড়াতে কেবল হাত ধোয়ার ব্যবস্থা যথেষ্ট কি-না, এমন প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা অধ্যাপক নাসিমা বলেন, এটাতো হতেই পারে। বারবার হাত ধুলে সংক্রমণটা প্রতিরোধ করা যায়। তবে ভোট কেন্দ্রগুলোতে সেই প্রস্তুতি শত নিশ্চিত করা আদৌ সম্ভব হবে কিনা, তাছাড়া ভোট দেয়ার সময় লাইনে দাঁড়ানো, অনেক মানুষের সমাগম ও সংস্পর্শের কারণে করোনাভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না বলেই মত সংশ্লিষ্টদের।
ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থায় কয়েক হাজার নির্বাচনকর্মীর প্রশিক্ষণ: মহামারী নভেল করোনাভাইরাস ছড়ানো রোধে বিশ্বজুড়েই জনসমাগম বন্ধ হওয়ার মধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে নিয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে দায়িত্ব পাওয়া ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়ে শুক্রবার (২০ মার্চ) প্রথম দফার প্রশিক্ষণ শুরু হয়। প্রশিক্ষণে আসা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের বেশিরভাগই এ আয়োজনে অসন্তুষ্ট; কেউ কেউ গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে নিজেদের ক্ষোভও ব্যক্ত করেছেন। প্রশিক্ষণার্থীদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়নি বলেও তারা অভিযোগ করেছেন।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দফায় ১৪ হাজারের বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ চলবে আগামী ২৫ মার্চ পর্যন্ত। এজন্য নগরীর নয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দফায় শুক্রবার নগরীর কুলগাঁও সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়, সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পাহাড়তলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও খাজা আজমেরী হাই স্কুলে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দুই দিনের প্রশিক্ষণ শুরু হয়।
প্রথম ধাপে শুক্রবার ১২টি ওয়ার্ডের দায়িত্ব পাওয়া প্রায় পাঁচ হাজার তিনশ নির্বাচনী কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে চারজন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, ২২৩ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, এক হাজার ৫১৪ জন সহকারী প্রিজাইডিং, তিন হাজার ২৮ জন পোলিং অফিসারের পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও পাঁচ শতাংশ কর্মকর্তা। আগ্রাবাদকুলগাঁও সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে এক হাজার ৪০০, সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক হাজার ৫০০, পাহাড়তলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এক হাজার ৩০০ ও খাজা আজমেরী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় এক হাজার ১০০ জন নির্বাচনী কর্মকর্তা প্রথমদিন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে; অনেকে নির্বাচন পেছানোর দাবি তুলেছেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যটন স্পট, পার্ক, হোটেল, কমিউনিটি সেন্টার, ক্লাবে জনসমাগম রোধ করতে সেগুলোর বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে মহানগর পুলিশ। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওয়াজ মাহফিল, নাম সংকীর্ত্তণ, নামযজ্ঞসহ বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান যেখানে লোক সমাগম ঘটে তা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
এরমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ না পিছিয়ে জনসমাগম কম করে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণার পরামর্শ দেওয়ার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্নভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছে চট্টগ্রামের স্থানীয় জনগণ। আগ্রাবাদপ্রশিক্ষণের অংশ নেয়া কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, যেখানে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেখানে ভোটের জন্য হাজার লোকের একসঙ্গে প্রশিক্ষণ কতটা বাস্তবসম্মত?
শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের খাজা আজমেরি হাইস্কুলে প্রশিক্ষণ নিতে আসা এক নারী রাজস্ব কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, যেহেতু সরকারি চাকরি করি, ভয় নিয়ে আসতে হলো, কেউ স্বতঃস্ফূর্ত না। সরকারি নির্দেশ মানতে এসেছি। পিডিবির এক উপ সহকারী প্রকৌশলী বলেন, এভাবে কী প্রশিক্ষণ হয়? ইসির চিন্তা করা দরকার। হাজার হাজার লোককে ঝুঁকিতে ফেলার কোনো মানে হয় না।
ওই কেন্দ্রের নিচে সিটি করপোরেশনের পানির ভাউচার দেখা গেলেও সেটিতে সাবান ছিল না। হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন প্রশিক্ষণার্থীরা। তাদের কেউ কেউ মাস্ক পরে থাকলেও কারো হাতে গ্লাভস ছিল না। এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, এখানে একজনও যদি অসুস্থ থাকেন তাহলে হাজারখানেক লোক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এর দায় কে নেবে?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, বেশি জনসমাগম যেন না হয় সেজন্য প্রতি কক্ষে ২৫ জন করে প্রশিক্ষণার্থী বসার ব্যবস্থা করেছি। তাদের জন্য হ্যান্ডওয়াশ রাখা হয়েছে। কারো হাঁচি-কাশি থাকলে তাদের মাস্ক ব্যবহার করতে বলেছি।

