ক্ষুধার কাছে পরাজিত করোনা আতঙ্ক

ক্ষুধার কাছে পরাজিত করোনা আতঙ্ক

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন। ২৯ মার্চ ২০২০ । ১৭:২২

যতদিন যাচ্ছে ততই পেটের ক্ষুধার কাছে পরাজিত হচ্ছে করোনার আতঙ্ক। পাগলেও তার ভাল বুঝে। কিন্তু পেটে ক্ষুধা লাগলে হিতাহিত থাকে না ক্ষুধার্থদের। গ্রাম্যভাষা, বাঘেও ধান খায় ক্ষিধার জ্বালায়। পেটের ক্ষুধার কাছে হার মানছে করোনার আতঙ্ক। তাই সকল বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে কাজের সন্ধানে রাস্তায় বের হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষগুলো।

দিনে যাদের ১৫০ থেকে ২০০ টাকা আয়। আর এই উপার্জন দিয়ে চলে অনেকের সংসার। করোনার সতর্কতা জারি ঘোষনার পর পর ঘর বন্দি হয়ে যায় সবাই। ধনী বা মধ্যবৃত্ত মানুষগুলো চলছে সমস্য নেই। কিন্তু বিপাকে পরছে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। যাদের একদিন কাজ না করলে চুলোই উঠে না ভাতের হাড়ি।

হিলি চারমাথায় যাত্রী নেই, নিজ ভ্যানে মাথায় হাত দিয়ে কি যেন ভাবছে সে। কথা হয় সেই ভ্যান চালক রাব্বানীর সাথে, সে বলেন, আমরা গরীব খেটে খাওয়া মানুষ। একদিন বসে থাকলে সংসার কিভাবে চলবে। সংসারের চাহিদা মেটাতে ভ্যান নিয়ে বাহির হয়েছি। কিন্তু সকাল থেকে বসে আছি কোন যাত্রী পাচ্ছি না।

একজন দিনমজুর আফজাল হোসেন জানান, ক’দিন যেটুকু চাল, ডাল জমানো ছিলো গতকাল থেকে সব ফুরিয়ে গেছে। পেটের ক্ষুধা তো আর কোন নিয়মকানুন মানে না। কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হয়েছি কিন্তু করোনার আতঙ্কে কেউ কাজ দিতে চাইছে না।

উপজেলার ১ নং খট্রা-মাধবপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোকলেছার রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নের ৬১৫ টি ভিজিডি’র চাল প্রতিটি কার্ডধারীদের বাড়িতে বাড়িতে পৌছে দিয়েছি। সরকারী কোন অনুদান আসা মাত্র অসহায় গরীব মানুষদের মাঝে বিতরণ করবো।

হাকিমপুর (হিলি) পৌর মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত জানান. বাংলাদেশ সরকার প্রানঘাতী করোনা প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্¿ী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে এবং দিনাজপুর-৬ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের দিকনির্দেশনায় আমি কাজ করছি। আমার পৌর এলাকার সকল খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষের পাশে আছি। তাদের জন্য সকল প্রক্রিয়া চলমান।

হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল রাফিউল আলম বলেন, উপজেলার অসহায় মানুষদের জন্য সরকারীভাবে চাল বরাদ্দ আসছে। সরকারী চালের পাশাপাশি স্থানীয়দের সহযোগীতায় চালের সাথে আলু, ডাল, লবণ, চিড়া ও আটা বিতরণ করবো। খেটে খাওয়া দিনমজুর ও অসহায়দের তালিকা করেছি। আজ রোববার (২৯ মার্চ) থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading