করোনা মোকাবিলায় ‘জাতীয় কমিটি’ চান ফখরুল
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন। ৩১ মার্চ ২০২০ । ১৭:৫০
নভেল করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারকে বিএনপি ‘সাহায্য করতে চেয়েছে’ বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি সংকট মোকাবিলায় একটি ‘জাতীয় কমিটি গঠন করা উচিত’ বলেও মনে করেন তিনি। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ঢাকার উত্তরার বাসায় গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা কখনোই সমালোচনার জন্য সমালোচনা করছি না। আমরা সরকারকে সাহায্য করতে চেয়েছি। আমরা বলেছি যে, আসুন আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে আহ্বান জানিয়েছি। জাতীয় কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন পর্যন্ত একটা জাতীয় কমিটি তৈরি হয়নি, যেটা করা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। এই ধরনের সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে যদি একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা যায়, সেটাই হবে দেশের জন্য ভালো কাজ। আমরা মনে করি যে, এখনো সময় আছে জাতীয় কমিটি করা দরকার, এটা গঠন করা উচিত।
কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীকেই উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আপনার পলিটিক্যাল পার্টি, সিভিল সোসাইটি, এগুলো নিয়ে একসঙ্গে বসে মিটিং করতে হবে, তা বলছি না। ঘোষণা করে আপনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেই এটা করতে পারেন। তখন সকলের মধ্যে একটা ধারণা আসবে— উই আর ওয়ান, আমরা এক।
অবশ্য ফখরুল যেদিন ভিডিও কনফারেন্সের পরামর্শ দিয়েছেন, তার আগের দিনই অর্থাৎ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পেস সচিব জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ১০টায় ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করবেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী এদিন প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে দেশে সার্বিক পরিস্থিতি জেনে বাংলা নববর্ষের মতো অনুষ্ঠান বন্ধের কথা জানান। একইসঙ্গে সাধারণ ছুটি বৃদ্ধির নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান সরকারপ্রধান।
এর পর বিএনপি মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীকে ভিডিও কনফারেন্সের পরামর্শ দিয়েছেন। মির্জা ফখরুল দাবি করেন, তার দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে খেটে খাওয়া মানুষের কাছে খাবার পৌঁছানোর কাজ করছেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা দিন আনে দিন খায়, তারা কয়েক দিন ধরে কোনো আয় করতে পারছে না এবং আর্থিক সংকটে পড়েছে। সেই সব মানুষের জন্য যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না যায়, তাহলে একটা বড় রকমের বিপর্যয় দেখা দেবে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সেনাবাহিনী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, যারা তৃণমূল পর্যায়ে আছেন এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে যদি সম্পৃক্ত করা যায়, তা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। সে জন্য বরাদ্দ থাকতে হবে, পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী থাকতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, হাসপাতালগুলোয় ডাক্তার পাওয়া যাচ্ছে না। একজন অ্যাপেন্ডিসাইটিসের রোগী আটটা হাসপাতালে ঘুরে আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে পারছে না। আমরা যে কারণে বারবার বলেছি, বিষয়টাকে পুরোপুরি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে এই জাতিকে রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। তিনি সরকারকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, এখন সরকারকে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। বিরোধী দলকে কীভাবে কাজে লাগাবে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কীভাবে কাজে লাগাবে, পরিবেশ কীভাবে সৃষ্টি করবে।
ছুটি ঘোষণা করে তার দুদিন পর পর্যন্ত পরিবহন চালু রাখা সরকারের ভুল ছিল বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, মানুষ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গণমাধ্যমে দেখেছেন, ৪০ হাজার বিদেশফেরত প্রবাসীর খোঁজ নেই। চীনের ঘটনার পর সরকার যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি নিলে সমস্যা প্রকট হতো না বলেও মনে করেন বিএনপি মহাসচিব।

