‘এদেন করি না খায়া হামরা কয়দিন বাঁচমো’

‘এদেন করি না খায়া হামরা কয়দিন বাঁচমো’

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ০৯ এপ্রিল ২০২০ । ১৫:০৯

‘এদেন করি না খায়া হামরা কয়দিন বাঁচমো। হামাক কোন নেম্বর (মেম্বার), চেয়ারমেন (চেয়ারম্যান) কিচ্ছু দেয়না। চাইট্টে খাবার না পাইলে তো হামরা মরি যামো’ এভাবেই হাজারো অভিযোগ আর অভিমান নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামের দু’জন আশির্ধ্ব অসহায় বিধবা নারী।

করোনাভাইরাস কি তা জানে না তারা, এমনকি বুঝতেও পারে না এর ভয়াবহতা। শুধু জানে পেটে তিন বেলা ভাত জোটেনা তাদের। আহারই যেন তাদের একমাত্র চাওয়া। আহার পেলেই হবেন খুশি।

শতবর্ষী অসহায় বৃদ্ধা দিলজানের স্বামী ইদু শেখ মৃত্যুবরণ করেছেন স্বাধীনতার আগেই। ২ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে ছিল তার পরিবার। হয়তোবা সুখের মুখ কখনো দেখেননি তিনি। বছর কয়েক আগে দু’টো ছেলেই দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এখন একমাত্র মেয়েটি তাকে দেখভাল করছেন। বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়েছেন দিলজান বেওয়া। হাঁটার শক্তি না থাকায় বিছানায় শুয়ে বসে কাটছে দিন। ক্রমান্বয়ে বাকশক্তি লোপ পাচ্ছে দিলজান বেওয়ার। আর অসুস্থতা ও চিকিৎসাহীনতার পাশাপাশি খাদ্যাভাব যেন হয়ে দাঁড়িয়েছে তার নিত্য সাথী।

অপরদিকে, একই পাড়ার সারফানের ( ৮০) স্বামী আজগর আলীরও বছর পঞ্চাশেক আগে মারা যান। তিন ছেলে নিয়ে অতিকষ্টে দিন চলছিল সারফান বেওয়ার। তিন ছেলেই পৃথক হওয়ায় মাকে দেখছে না কেউই। নিরুপায় হয়ে পেট বাঁচানোর দায়ে ভিক্ষা বৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু বয়সের কড়াল গ্রাসে এখন সোজা হয়ে দাঁড়াতে কিংবা হাঁটতেও পারেন না তিনি। শুধু গ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল তার কর্মপরিধি। সাম্প্রতিক নোভেল করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষ আর বাড়িতে যেতে দিচ্ছে না তাকে। ভিক্ষায় যেতে না পেরে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তার।

এ অবস্থায় ওই গ্রামের সবচেয়ে প্রবীণ দুই নারীর দেখা দিয়েছে খাদ্যাভাব। তিন বেলা পেট পুরে খেতে খাদ্য সহায়তা চেয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নানের সাথে কথা হলে, তিনি বলেন- ‘আমি ৩/৪টি নাম পেয়েছি, কাকে ছেড়ে, কাকে দেব? সবাই তো হতদরিদ্র। তাই আমি ওই ৩/৪টি নাম নেইনি।’

ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানান, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তাদেরকে পাঠিয়ে দিলে সহায়তা দেয়া হবে।’

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading