দিনাজপুরে জমতে শুরু করেছে লিচুর বাজার

দিনাজপুরে জমতে শুরু করেছে লিচুর বাজার

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০১ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৪:৪০

লিচুর রাজ্যখ্যাত দিনাজপুরে জমে উঠেছে বেচাকেনা। বাজারে এসেছে মাদ্রাজি, বেদানা, বোম্বাই ও চায়না-থ্রি জাতের লিচু। বর্তমানে ১০০ লিচু সর্বনিম্ন ২৫০ ও সর্বোচ্চ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে ঈদের কারণে শহর ছেড়ে মানুষ গ্রামে ফেরায় এবং পণ্যবাহী যানাবাহন বন্ধ থাকায় গতবারের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর একই সময় লিচু সর্বনিম্ন দাম ছিল ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

চাষিরা বলছেন, দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, অন্য বছরের তুলনায় এবার দাম অনেক কম। ক্রেতারাও বলছেন, গতবারের চেয়ে এখন পর্যন্ত দাম অনেক কম। তবে আজ থেকে পণ্যবাহী পরিবহন, কুরিয়ার সার্ভিসের বুকিং শুরু হওয়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা আসতে শুরু করেছেন। ফলে দুই একদিনের মধ্যে লিচুর দাম বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় পাঁচ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে পাঁচ হাজার ৪১৮টি। এর মধ্যে বোম্বাই লিচু তিন হাজার ১৭০ হেক্টর, মাদ্রাজি এক হাজার ১৬৬ হেক্টর, চায়না-থ্রি ৮০২ হেক্টর, বেদানা ২৯৫ দশমিক ৫ হেক্টর, কাঁঠালি ৫৬ হেক্টর ও মোজাফফরপুরী ১ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। পাশাপাশি বসতবাড়ির উঠান ও বাগানসহ লিচুগাছ আছে প্রায় সাত লাখ। এবার লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন।

গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ৩০ হাজার মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য ছিল প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা। তবে এবার লিচুর ফলন কিছুটা কম।

জেলার সবচেয়ে বড় লিচুর বাজার শহরের কোতোয়ালি থানার নিকটবর্তী নিউমার্কেট। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় থাকে।

সোমবার (১ জুন) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, একদিকে চলছে ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক। অপরদিকে চলছে দর-কষাকষি। বাজারে মাদ্রাজি, বেদানা ও বোম্বাই জাতের লিচু বেশি দেখা গেলেও খুচরা বাজারে অল্প পরিমাণ দেখা মিলেছে বেদানা ও চায়না-থ্রি লিচু। বাজারের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ভ্যান ও ইজিবাইকে লিচু নিয়ে বিক্রির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন চাষি ও বাগানিরা।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাইকারিতে মাদ্রাজি লিচুর হাজার বিক্রি হচ্ছে ১৮০০-২০০০ টাকা। বেদানার হাজার ৩৫০০ টাকা থেকে ৬০০০ হাজার, চায়না থ্রি সাত-আট হাজার এবং বোম্বাই ২২০০-২৫০০ টাকা।

লিচু ব্যবসায়ী দরদী ফল ভান্ডরের সত্ত্বাধিকারী মো. রানা বলেন, বৃষ্টি ও রোদের কারণে লিচুর সাইজ ও রং অনেক ভালো হয়েছে। মাদ্রাজী ১৮০০-২০০০ টাকা হাজার, চায়না থ্রি সাত-আট হাজার এবং বোম্বাই ২২০০-২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মামুন ফল ভান্ডারের সত্ত্বাধিকারী ও আড়ৎদার মো. মামুন বলেন, মার্কেটে জায়গা সংকীর্ণ হওয়ায় খুব কষ্টে আছি। পৌরসভা যেন সহায়তা করে।

ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্যাপক লিচু আমদানি হওয়ায় দাম কম। বাগান থেকে মোম্বাই লিচু নিয়ে এনেছি ২৪০০ করে হাজার, এখানে দিলাম ২০০ টাকা লসে ২২০০ করে। গতকাল দাম ভালোই ছিল।

বিরল উপজেলার কামদেবপুর থেকে আসা মিজানুর রহমান বলেন, নিউ মার্কেট মাদ্রাজী লিচু নিয়ে প্রায় ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করছি। কখন আড়তে পৌঁছে বিক্রি করবো আল্লাহ জানে।

সদর উপজেলার ঘুঘুডাঙ্গা থেকে আসা সজীব হাসান বলেন, লিচু বিক্রির জন্য প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে রাস্তায় লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছি। আর কতক্ষণ লাগবে বলা মুশকিল। লিচুর দাম পাবো কি না তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

নিউমার্কেটে লিচু কিনতে এসেছেন মুশফিকুর রহমান। তিনি দিনাজপুর শহরের বাসিন্দা হলেও চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন। দুপুর ২টার গাড়িতে ঢাকায় যাবেন লিচু নিয়ে। বেদানা লিচু ৫০০ এবং চায়না থ্রি ৮০০ টাকা শ হিসেবে কিনলেন। দাম কম পেয়ে খুশি বলে জানালেন।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, এবার লিচুর ফলন কিছুটা কম হয়েছে। তবে এবার লিচুর আকার, সাইজ ও রং ভালো। কেবল বাজার শুরু হয়েছে। চাষিরা দাম ভালো পাবেন আশা করছি।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading