চেহারা দেখে ভেতরের রূপ চেনা যায় না!
উত্তরদক্ষিণ ১১ এপ্রিল ২০২০ । ২২ঃ০৫
হানজালা শিহাবঃ মনুষের চেহারা দেখে তার ভেতরের রূপ চেনা যায় না। আমি ব্যক্তিগতভাবে দাড়ি, টুপি, পাঞ্জাবিওয়ালা ব্যবসায়ীদের প্রতি আস্থা রাখি। কিন্তু সব সময় সেই বিশ্বস্ততার সুফল মিলে না। দুঃখজনক হলেও এটাই বাস্তব।
ছবিতে বড় বড় সাদা দাড়ি আর টুপি পাঞ্জাবিওয়ালা ব্যক্তি একজন ব্যবসায়ী। তার ছেলেও (সম্ভবত) টুপি, দাড়ি ও পাঞ্জাবিওয়ালা। অর্থাৎ মুত্তাকী (আমার ধারণায়) মানুষ। কারওয়ান বাজার মার্কেটে (বাপেক্স ভবনের পূবপাশে) দ্বিতীয় তলায় তাদের দোকান।
আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে অতি প্রয়োজনীয় কিছু কেনাকাটার জন্য বাজারে গিয়ে ওই দোকানে গেলাম। একটি লিজল (lizol) এর দাম জানতে চাইলাম। বুড়া লোকটি জানালো ২৮০ টাকা। আমি হাতে নিয়ে দেখি গায়ে সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য ২২৫ টাকা লেখা। গায়ের মূল্যের চেয়ে বাড়তি দাম চাওয়া আইনগত অপরাধ এবং আমি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পর তিনি আমার কাছ থেকে সেটি নিয়ে গেলেন। বাড়তি দাম দিব, কিন্তু ভদ্রলোক আমাকে ক্যাশম্যামো দিবে না। শেখ হাসিনাকে (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী) নিয়ে আসতে বলছে ক্ষমতা থাকলে। আমি বিনয়ের সঙ্গে বললাম, ওনার এটা কাজ নয়, ওনি তো এখানে আসবেন না।
তাহলে যাকে পারি যেন নিয়ে আসি। কিন্তু আমার কাছে ওনি লিজল বিক্রি করবে না। নিরূপায় হয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা অফিসের ডিডি মাসুম আরেফিন সাহেবকে ফোন দিলাম। দোকানের অ্যাড্রেস জানালাম, জাকির এন্টারপ্রাইজ ২১৮/২৯, দ্বিতীয় তলা, কারওয়ান বাজার, সিটি করপোরেশন মার্কেট। তিনি হাতিরপুল এলাকায় অভিযানে আছেন, জানালেন। পরে তিনি সেই দোকানে অভিযানে গেলে লিজল তাদের কাছে নেই বলে দেন দোকানি! ফলে অভিযানের দণ্ড থেকে রক্ষা পেলেন।
এখন বলুন, এমন ফেরেশতার (সাদা দাড়ি, টুপি আর সাদা পাঞ্জাবি) মতো মানুষকে কী বলা যায়?

