করোনা আক্রান্ত ২১ লাখ ছাড়ালো, মৃত্যু ১ লাখ ৩৬ হাজার
উত্তরদক্ষিণ ১৬ এপ্রিল ২০২০ । ১৭:০০
পৃথিবীজুড়ে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার মানুষের। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) গ্রিনিচ মান সময় ১৩:৩৫টায় ওয়ার্ল্ডওমিটারের সবশেষ আপডেট তথ্যে এমনটাই প্রকাশ করা হয়েছে। আশার কথা হচ্ছে, বিশ্বে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়া মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ ২৫ হাজার মানুষ করোনার সংক্রমণ থেকে সুস্থ্য হয়েছেন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডওমিটারের প্রকাশিত আডটেড তথ্যে দেখা যায়, বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ২১ লাখ ২ হাজার ৬৬৩ জন। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১১৮ জনে। সবশেষ প্রাপ্ত তথ্যে সুস্থ হওয়ার সংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৮ জন।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ১৪ লাখ ৪১ হাজারের বেশি। আর কভিড-১৯ আক্রান্তদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় আছেন অন্তত ৫১ হাজারের বেশি রোগী।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়ার্ল্ডওমিটারসহ বিশ্বের সব গবেষণা ও জরিপ সংস্থার হিসাবে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের ও মৃতের সংখ্যা আমেরিকায়। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি। মারা গেছেন, ২৮ হাজার ৫৭২ জন।
মৃতের হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ২১ হাজার ছাড়িয়েছে। সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৮৮ জন। মৃতের দিক থেকে বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইউরোপের আরেক দেশ- স্পেন। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১৯ হাজার ১৩০। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১৬ জন।
নভেল করোনার উৎপত্তিস্থল চীনে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৩৪৩ জনের। সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৮২ হাজারের বেশি মানুষ। যদিও দেশটির বিরুদ্ধে প্রকৃত পরিস্থিতি গোপন করার অভিযোগ রয়েছে।
করোনা মহামারিতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকা অন্যদেশগুলোর মধ্যে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফ্রান্সে আক্রান্ত সংখ্যা ১ লাখ ৪৩ হাজারের বেশি, মৃত্যু হয়েছে ১৫ হাজার ৭২৯ জনের। ব্রিটেনে আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছুঁই ছুঁই করছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বরিস জনসনের দেশে ৯৮ হাজার ৪৭৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ১২ হাজার ১০৭ জনের। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নিজেও আক্রান্ত হয়েছিলেন করোনায়। তবে ভাগ্যক্রমে মৃত্যুর দুয়ার থেকে বেঁচে ফিরেছেন তিনি।
ইউরোপের প্রভাবশালী দেশ- জার্মানির অবস্থাও দ্রুত অবনতির দিকে। দিন গড়ানোর সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যু আর আক্রান্তের সংখ্যা। হিটলারের দেশ হিসেবে পরিচিত জার্মানিতে এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩ হাজার ৮৪৯ জনের। আক্রান্ত সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ হাজারেরও বেশি।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রতিবেশী দেশ ইন্ডয়ার অবস্থা বেশ নাজুক। বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্ত সংখ্যা ১২ হাজার ৭৫৯ জনে পৌঁছেছে। ইন্ডিয়ায় এ পর্যন্ত অন্তত ৪২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট আক্রান্ত সংখ্যা ১৬শ ছুঁই ছুঁই। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক সংখ্যক ৩৪১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগের দিন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২১৯ জন। যা মঙ্গলবার ছিল ১০৯, এর আগের দিন ১৮২ জন। আর গত রবিবার ছিল ১৩৯। এভাই প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৭২ জনে। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ সংখ্যক ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ। এনিয়ে দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ৬০ জন। আর দেশে সুস্থ হওয়ার নতুন কোনও তথ্য না থাকায় আগের দিনে সংখ্যা ৪৯ জনই ঠিক আছে। অর্থাৎ সুস্থ হওয়ার তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুর হার বেশি। যা বিশ্বের অন্যান্য দেশে ভিন্ন চিত্র।

