করোনা নয়, ক্ষুধায় মৃত্যু হতে পারে ৩ কোটি মানুষের!
উত্তরদক্ষিণ ১৭ এপ্রিল ২০২০ । ১০:২০
নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুর ভয়ে আতঙ্কিত আজ সারা দুনিয়া। এরই মধ্যে ১ লাখ ৩৬ হাজারের অধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। আক্রান্তের সংখ্যা ২১ লাখের বেশি। করোনায় কত মানুষের মৃত্যু হতে পারে সারা পৃথিবীতে? এমন প্রশ্ন অনেকের মনে উঁকি দেওয়া স্বাভাবিক। সেই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য এ মুহূর্তে কারো কাছে নেই। সামগ্রীকভাবে এমন ধারণা, গবেষণা বা জরিপ কোনো সংস্থা এখনও প্রকাশ করেনি।

তবে নতুন একটি শঙ্কার কথা জানিয়েছে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (ডাব্লিউএফপি)। সংস্থাটির গবেষণায় উঠেছে এসেছে, করোনাভাইরাস মহামারিতে বিশ্বে অর্থনৈতিক যে মন্দা বা ধ্বস মেনে আসতে যাচ্ছে, তাতে অনাহারে বা খাবারের অভাবে ক্ষুধার যন্ত্রণায় বিশ্বে অন্তত ৩ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। সেই তালিকায় উন্নয়নশীল দেশগুলো যে প্রথম সারিতে থাকবে- তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সেই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও স্থান পেতে পারে বলেই ধারণা করছে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা।

এ থেকে মুক্তির একমাত্র পথ বিশ্বব্যবস্থায় গরিব মানুষদের পাশে ধনীদের দাঁড়ানো। উন্নত বিশ্বের প্রতি সেই আহ্বানই জানিয়েছেন বিশ্ব খাদ্য সংস্থার (ডাব্লিউএফপি) প্রধান ডেভিড বেসলে। গত বুধবার (১৬ এপ্রিল) কানাডাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গ্লোব অ্যান্ড মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেভিড বেসলে বলেছেন, জাতিসংঘ তহবিল গঠন না করলে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। তার আশঙ্কা, দরিদ্রদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা না গেলে অন্তত ৩ কোটি মানুষ অনাহারে মারা যেতে পারে।
বেসলে জানান, বিভিন্ন দেশের সরকারের আর্থিক সহায়তায় বিশ্বে অন্তত একশ মিলিয়ন মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয় ডাব্লিউএফপি। তার মধ্যে অন্তত ৩০ মিলিয়ন (৩ কোটি) মানুষ খাবার না পেলে অনাহারে মারা যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে। জীবন বাঁচাতে হলে তাদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ডেভিড বেসলে মনে করেন, করোনা দুর্যোগের মতো পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ ডাব্লিউএফপি’কে অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দিতে পারে। আর এতে করে বিপর্যয় আরো বেড়ে যাবে। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি ‘আমরা অর্থায়ন বন্ধের কবলে পড়ি.. সর্বনিম্ন ৩০ মিলিয়ন মানুষ মারা যাবে। তিন মাসের বেশি সময় ধরে দিনে ৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হবে!

