টেকনাফে পঙ্গপাল সদৃশ পোকার আক্রমণ
উত্তরদক্ষিণ শুক্রবার ০১ মে ২০২০। ১৪:৩১
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় সম্প্রতি ঘাসফড়িংয়ের মতো ছোট ছোট কিছু পোকা দেখা যাচ্ছে, যেগুলো উড়তে পারে না। এরকম শত শত পোকা দলবেঁধে স্থানীয় বাসিন্দাদের বসতভিটার গাছপালায় আক্রমণ চালিয়ে উজাড় করে ফেলছে বলে জানা গেছে।
কালো রঙের ডোরাকাটা ওই পোকাগুলো দেখতে অনেকটা পঙ্গপালের মতো বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পতঙ্গ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন। পোকার আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কক্সবাজার থেকে কৃষি কর্মকর্তা গিয়ে পোকাগুলোর নমুনা সংগ্রহ করেন। তারা জানিয়েছেন, এ ধরণের পোকা তারা আগে কখনও দেখেননি।
পোকাগুলোর ছবি দেখে অধ্যাপক রুহুল আমিন ধারণা করছেন, এগুলো স্খিস্টোসার্কা গ্রেগারিয়া প্রজাতির পঙ্গপাল। যেগুলো বেশ বিধ্বংসী হয়ে থাকে। বাংলাদেশে লোকাস্টা মাইগ্রেটোরিয়া প্রজাতির পোকা রয়েছে। যেগুলো ঘাসফড়িংয়ের মতো। আকারে বড় হলেও, খুব বেশি ক্ষতিকর নয়।
নতুন ছোট প্রজাতির এই পোকাগুলো যদি পঙ্গপাল হয়ে থাকে এবং সেগুলো যদি এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে সামনে বড় ধরণের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন অধ্যাপক রুহুল আমিন। কেননা পঙ্গপাল বহুভোজী পোকা। এরা ঝাঁক বেঁধে শস্য, ফসল থেকে শুরু করে বন জঙ্গলে হামলা চালিয়ে সব উজাড় করে ফেলে।
যেহেতু পোকাটি অনেক গাছপালা খেয়ে নষ্ট করে ফেলছে, তাই একে ক্ষতিকর বলে মনে করছেন টেকনাফ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারাও। এই পোকা যাতে আর ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য তারা স্থানীয়দের কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন।

পঙ্গপাল তাড়াতে গুলি, টিয়ারগ্যাস, সাইরেন
গত বছরের শেষ দিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল আফ্রিকার ইথিওপিয়া, কেনিয়া ও সোমালিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে আক্রমণ চালিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। এ বছরের শুরুতে পাকিস্তানে পঙ্গপালের আক্রমণে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর জানা যায়। যার কারণে দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করতে হয়। এর পর ইন্ডিয়ার পাঞ্জাবে প্রদেশে এই পঙ্গপাল ঢুকে পড়লে আশেপাশের কয়েকটি রাজ্যে সতর্কতা জারি করা হয়। এছাড়া চীন এবং মিয়ানমারেও পঙ্গপালের উৎপাত দেখা গেছে। পঙ্গপালের ঝাঁক যেহেতু ইন্ডিয়া, মিয়ানমারে পৌঁছেছে, এগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল আগে থেকেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পঙ্গপাল সাধারণত দানাজাতীয় ফসল যেমন, ধান, গম, যব, ভুট্টা, কাউন ইত্যাদি ফসলে আক্রমণ চালায়। পঙ্গপালের একটি ঝাঁকে কয়েকশ পতঙ্গ থাকে এবং এরা খুব দ্রুত ওড়ে। যা দলবেঁধে একরের পর একর জমির ফসল নিমেষেই উজাড় করে ফেলতে পারে।
জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন বলছে, একটি বড় পঙ্গপাল দিনে ১২০ মাইল পর্যন্ত জমির ফসল খেয়ে ফেলতে পারে। এক বর্গকিলোমিটার আকারের পঙ্গপাল একসঙ্গে যে পরিমাণ খাবার খায় তা দিয়ে ৩৫ হাজার মানুষকে এক বছর খাওয়ানো সম্ভব বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
টেকনাফে যে পোকাগুলো দেখা গেছে, সেগুলোর পাখা থাকলেও কোনটা উড়তে পারে না। এরা পাতা থেকে আরেক পাতায় লাফিয়ে লাফিয়ে চলে। অধ্যাপক রুহুল আমিন ধারণা করছেন পঙ্গপালগুলো হয়তো নিম্ফ পর্যায়ে রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এগুলোর পাখা গজাতে পারে। সাধারণত এই পোকাগুলো সংখ্যায় বাড়ার পর যাযাবর হয়ে ঘোরাফেরা করে এবং চলতি পথের ফসল নষ্ট করে দেয়।
টেকনাফে দিন দিন এই পোকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ারে স্থানীয়রা বেশ উদ্বেগের মধ্যে আছেন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন জানিয়েছেন, তারা এখনও নিশ্চিত নন এটি পঙ্গপাল কিনা। তাই এখনও তারা কোন ধরণের মনিটরিং শুরু করেননি। তথ্য সহায়াতা বিবিসি বাংলা।

