ছুটে আসছে মানুষ, করোনায় স্বাস্থ্যঝুঁকির আতঙ্ক
উত্তরদক্ষিণ মঙ্গলবার ১২ মে ২০২০। ১৮:৩১
গত কয়েকদিনে ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছে শ্রমজীবি মানুষ। বিশেষ করে গার্মেন্টস কারখানা খুলে দেয়ার পর থেকে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যারা বিভিন্ন গ্রাম থেকে শহরে ছুটে আসছেন তারা মানছেন না কোন স্বাস্থ্য সতর্কতা। যে কারণে করোনায় স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কুমিল্লার হাইমচরের ফয়সাল (৩০) একজন মুদি দোকানি। সারারাত ট্রলারে করে গত ২৬ এপ্রিল তিনি আসেন সাভারের সোসাইটি এলাকায়। এসেই মহল্লায় থাকা তাঁর মুদি দোকান খুলে শুরু করেছেন ব্যবসা। ছায়াবিথি এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মজিদ মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া আসমা (২৫) চাকরী করেন একটি পোশাক কারখানায়। রংপুরের গ্রাম থেকে তিনি চলে এসেছেন সাভারে। কিন্তু পোশাক কারখানা খুলে দিলেও শরীরে জ্বর থাকার কারণে আসমা কাজে যোগ দিতে গেলেও তা আর হয়নি।এমনিভাবে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের শ্রমজীবি মানুষগুলো জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন উপায়ে চলে এসেছেন শহরে।বিভিন্ন পাড়া ও মহল্লার বাড়ি মালিক ও সচেতন মানুষেরা অভিযোগ করেন, গ্রাম থেকে প্রায় লক্ষাধিক লোক এসেছেন শহরে। এরা সিংহভাগই ভাড়াটিয়া। জীবিকার তাগিদে এরা শহরে ছুটে এলেও মানছেন না হোম কোয়ারেন্টাইন বা স্বাস্থ্য নির্দেশ। অনেকেই অসুস্থ শরীর নিয়ে কাজে যাচ্ছেন। এতে করে স্বাস্থ্য ঝুঁকির আতঙ্কে রয়েছেন সকলে।পোশাক কারখানা খুলে দেয়ার ঘোষণার পর ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার নিষেধাজ্ঞায় অনেকটাই শিথিলতা দেখা যাচ্ছে। ঢাকার প্রবেশ মুখগুলোতে শতশত মানুষকে ছাড় দিতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের।ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দায়িত্বরত পুলিশ বলছে, ফাঁকা পেয়ে মূল সড়কে নেমেছে অটোরিকশা, রিকশা ও ভ্যান। পোশাক কারখানা খোলার বিজ্ঞপ্তিতে যাতায়াতে ছাড় দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।সাভার উপজেলা পরিবার ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সায়েমুল হুদা জানান, সাভারের শিল্পাঞ্চলে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে না চললে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করতে পারে। যারা গ্রাম থেকে শহরে এসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলছেন বা গার্মেন্টসে কাজে যোগ দিচ্ছেন তাদের ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা উচিৎ। এরমধ্যে তিনি সুস্থ থাকলে তবেই কাজে যোগ দিতে পারবেন। তা না হলে সাভারে স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রকট আকার ধারন করবে।ঢাকা জেলার পদোন্নতি প্রাপ্ত ও দায়িত্বরত পুলিশ সুপার মাসুম আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীগুলোকে সরকারী স্বাস্থ্য নির্দেশ মেনে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর ব্যপ্তয় ঘটলে আইন-শৃংখলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

