করোনার বিনাশে মন্দিরে ‘নরবলি’ ইন্ডিয়ায়!

করোনার বিনাশে মন্দিরে ‘নরবলি’ ইন্ডিয়ায়!

উত্তরদক্ষিণ বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০। ২১:৫৮

করোনা ভাইরাস নিয়েই বিশ্বব্যাপি আতংকের মধ্যে ইন্ডিয়ায় এক পুরোহিত এক নির্মম কান্ড ঘটিয়েছেন। করোনা ভাইরাস বিনাশের লক্ষে দেবতাকে তুষ্ট করার জন্য ওই পুরোহিত রীতিমত ‘নরবলি’ দিলেন। কলকাতা থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংসারি ওঝা নামের ওই পুরোহিত জানিয়েছেন তিনি ‘স্বপ্নাদেশ’ পেয়ে এই নরবলি করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উড়িশ্যায়।

স্বপ্নাদেশ মতো এই পুরোহিত মন্দিরের ভিতরেই কুড়ুল দিয়ে এক ব্যক্তির মাথা কেটে বলি দিলেন। উড়িশ্যার কটকে এক স্থানীয় মন্দিরের বৃদ্ধ পুরোহিতের বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে নরবলির কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ তাকে অভিযোগে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার (২৭ মে) গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটছে উড়িশ্যার নরসিংহপুর থানা এলাকায় বাঁধহুদা গ্রামের কাছে একটি স্থানীয় মন্দিরে। ওই মন্দিরের ৭২ বছরের পুরোহিত সংসারী ওঝার বিরুদ্ধে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মৃতের নাম সরোজকুমার প্রধান (৫২)।

পুলিশের দাবি, এ দিন সকালে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন সংসারী ওঝা। তবে তদন্তকারীদের কাছে তাঁর দাবি, করোনাভাইরাসকে বিনাশ করতে মন্দিরের দেবীর কাছ থেকে নরবলির স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন তিনি। সেই নির্দেশ মেনেই সরোজকে বলি দিয়েছেন।

তবে এলাকাবাসী পাল্টা দাবি, সরোজের সঙ্গে ওই গ্রামের একটি আমবাগান নিয়ে দীর্ঘ দিনের বিবাদ চলছিল ওই পুরোহিতের। সেই আক্রোশেই এ কাজ করে থাকতে পারেন তিনি।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনার রাতে সরোজের সঙ্গে নরবলি নিয়েই ঝগড়াঝাঁটি হয় বলে জানিয়েছেন সংসারী ওঝা। তর্কাতর্কির সময় একটি কু়ড়াল দিয়ে সরোজের মাথায় আঘাত করেন তিনি। কুড়ুলের ঘায়ে সেখানেই লুটিয়ে পড়েন সরোজ। এর রাত পেরোলে পুলিশের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন সংসারী ওঝা।

ইন্ডিয়া পুলিশের কটকে দায়িত্বরত ডিআইজি (সেন্ট্রাল রেঞ্জ) আশিসকুমার সিংহ জানিয়েছেন, সরোজের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

ওই  তিনি বলেন, ‘‘প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে ঘটনার সময় মত্ত অবস্থায় ছিলেন সংসারী ওঝা। পরের দিন সকালে তাঁর হুঁশ ফিরলে পুলিশের কাছে এসে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। খুনের কথা স্বীকারও করে নিয়েছেন সংসারী।’’

ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে উড়িশ্যায়। অভিযুক্তের চরম শাস্তির দাবি করেছেন অনেকে। ওই রাজ্যের এক সমাজকর্মী সত্যপ্রকাশ পতি বলেন, ‘‘একবিংশ শতকেও যে মানুষ এ ধরনের বর্বর কাজে বিশ্বাস করে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। দোষীর কড়া শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’’

গ্রাফিক্স: তিয়াসা দাস

SekFaruk

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading