করোনা মোকাবেলায় নেয়া পরিকল্পনায় অভিবাসীদেরকে অন্তর্ভুক্ত করুন

করোনা মোকাবেলায় নেয়া পরিকল্পনায় অভিবাসীদেরকে  অন্তর্ভুক্ত করুন
জাতিসংঘে বাংলােদেশের স্থায়ী প্রিতিনিধি রাবাব ফাতিমা

উত্তরদক্ষিণ : শনিবার ০৬ জুন ২০২০ । আপডেট ১৫:০৫

করোনা (কেভিড-১৯) মহামারির প্রভাবজিনত ভয়াবহতার শিকার হওয়ার পাশাপািশ অভিবাসীগণ বিশ্বের অনেক জায়গাতেই অধিকার, জরুরি স্বাস্থ্য পরিসেবা এমনিক চাকরির সুযোগ পাচ্ছে না। করোনার কারণে ব্যাপকভােব ক্ষতিগ্রস্থ অভিবাসীদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ‘বৈশ্বিক সংহতি ও সহেযািগতা’ এবং ‘সুদৃঢ় রাজৈনিতক সদিচ্ছা’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলাচনায় অংশ নিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলােদেশের স্থায়ী প্রিতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা এ আহবান জানান।

অভিবাসন সংক্রান্ত সমমনা দেশসমূহের উদ্যোগে “কোভিড-১৯ এর প্রাক্কালে অভিবাসন : অভিবাসীদের স্বাস্থ্য ও রেমিট্যান্স” শীর্ষক এক উচ্চ পর্যায়ের ভার্চুয়াল আলাচনার আয়োজন করা হয়। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ খবর জানানো হয়।

আয়ারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও প্রবাসী মন্ত্রী সিয়ারান ক্যানন টিডিসহ অভিবাসী প্রেরণকারী ও গ্রহণকারী দেশসমূহের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাষ্ট্রদূত উচ্চ পর্যায়ের এ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া এসিডিজ অর্থায়ন বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ড. মাহমুদ মোহাইয়েলদিন, আইএফএডি ডব্লিউএইচও এবং অন্যান্য জাতিসংঘ সংস্থাগুেলার উচ্চ পর্যােয়র প্রতিনিধগণ এতে অংশ নেন।

বাংলােদেশর স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “অভিবাসীরা গ্রহণকারী-দেশগুেলার উন্নয়েন অবদান রাখা প্রথম সারির কর্মী, এমনকি এই করোনাকালেও একথা সত্য। ফলে সব দেশ কোভিড-১৯ মোকাবেলায় ও উত্তরণে নেয়া পরিকল্পনা ও প্যাকেজসমূহে অবশ্যই অভিবাসীেদরেকও অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে।

অনেক দেশ থেকে অভিবাসীদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করায় উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, প্রত্যাবর্তনকারীদের ব্যবস্থাপনা করা অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। এ বিষয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রচেষ্টাসমূহে অবশ্যই জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জািতক উন্নয়ন অংশীদার ও অংশীজনদের সহেযািগতার হাত বাড়াতে হবে।

এ সভায় বক্তারা উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং নারীর ক্ষমতায়নে অভিবাসন ও রেমিট্যান্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্বীকার করেন। তারা বলেন, অভিবাসীদের নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি ও কোভিড-১৯ এর প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোত রেমিট্যান্স প্রবাহ ২০% এরও অধিক হ্রাস পাওয়া বিষয়ক বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণের কথা তুলো ধরে স্থায়ী প্রতিনিধগণ সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেন, এর পরিনতি খুবই ভয়াবহ হতে পারে, যা উন্নয়নশীল বিশ্বের রেমিট্যান্স নির্ভরশীল পরিবারসমূহকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

করোনা সৃষ্ট মন্দায়ও রেমিট্যান্স প্রবাহ সচল রাখার গুরুত্বকে স্বীকৃিত দিয়ে সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের ‘কল টু অ্যাকশন- অন রেমিট্যান্সেস ইন ক্রাইিসস’শীর্ষক যৌথ বিবৃতিকে স্বাগত জানান স্থায়ী প্রিতিনিধি।

তিনি বলেন, অর্থনীতি ও সমাজে অভিবাসীদের অবদানের ধারাবািহকতা রক্ষায় আন্তর্জািতক সম্প্রদায়কে অবশ্যই পুনরায় অভিবাসীদের উপেযাগী পরিস্থিতি বজায় রাখতে কাজ করতে হবে, না হয় শুধু অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার বৃদ্ধি পাবে।

রাষ্ট্রদূত ফাতিমা জাতিসংঘ মহাসিচেবর “পিপল অন দ্য মুভ” শীর্ষক বিবৃতিকে স্বাগত জানান।

বাংলােদশ, আয়ারল্যান্ড, মেক্সিকো ও বেবিনন যৌথভােব ‘অভিবাসন সংক্রান্ত সমমনা দেশসমূহের গ্রুপের সহ-আহ্বায়ক।

SekFaruk

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading