বাজেটে স্বাস্থ্যের জন্য ‘মেগা প্ল্যান’!

বাজেটে স্বাস্থ্যের জন্য ‘মেগা প্ল্যান’!

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার ১১ জুন ২০২০ । ১০:০০

করোনা বা কোভিড-১৯ মহামারি থেকে ‘শিক্ষা নিয়ে’ স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানোর কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এজন্য এ খাতের বরাদ্দ বাড়ানোসহ নতুন বাজেটে একটি ‘মেগা প্ল্যান’ ঘোষণা করা হচ্ছে। এতে থাকবে ৩ বছরের মধ্যম এবং ১০ বছরের দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা। ২ মেয়াদের পরিকল্পনায় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ‘আমূল পরিবর্তন ঘটবে’ বলে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী। জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বাস্থ্য খাতের দুর্দশার বিষয়টি স্বীকার করে তা ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, “আমাদের স্বাস্থ্য খাতের বেহাল অবস্থা। এ অবস্থা আমরা আর রাখতে চাই না। বিদ্যুৎ খাতের মতো স্বাস্থ্য খাতে ১০ বছরের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতেই মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই ‘মেগা প্ল্যান’ নিচ্ছি। একসময় দেশে বিদ্যুতের খুবই সঙ্কট ছিল। এখন আমরা বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। যেভাবে আমরা বিদ্যুৎ খাতের সফলতা অর্জন করেছি। স্বাস্থ্য খাতেও দেখিয়ে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।”

করোনাভাইরাস মহামারী দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দৈন্য ফুটিয়ে তুলেছে। মেডিকেল টেকনোলজিস্টের অভাবে রোগীর নমুনা সংগ্রহ যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনি আক্রান্তদের সেবা দিতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সের অপ্রতুলতার প্রকাশও ঘটেছে। সেজন্য তড়িঘড়ি করে নিয়োগ দিতে হয়েছে সরকারকে। বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) স্বল্পতার বিষয়ও প্রকাশ্য হয়েছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সক্ষমতার ঘাটতিও নজরে এসেছে। সেই অবহেলার গর্ত থেকে স্বাস্থ্য খাতকে তুলে আনতে নতুন বাজেটে ‘মেগা প্ল্যান’ ঘোষণা করা হচ্ছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্য মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের জন্য ২৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ২৩.৪৪ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন-অনুন্নয়ন মিলে ২৫ হাজার ৭৩২ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে সংশোধনে তা কমে ২৩ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা হচ্ছে।

করোনা মোকাবেলায় কর্মরত সরকারি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হলে তাদের পদ অনুযায়ী আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নতুন বাজেটে ৭৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে। এছাড়া সদ্য নিয়োগ পাওয়া ২ হাজার চিকিৎসক এবং নতুন করে নিয়োগ পেতে যাওয়া ৫ হাজার নার্স ও ২ হাজার মেডিকেল টেকনোলজিস্টের বেতন-ভাতা বাবদ বাজেটে ৬০০ কোটি টাকা রাখা হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবেলায় স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার জন্য এরই মধ্যে বিশ্ব ব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) এগিয়ে এসেছে। এরই মধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এডিবির অর্থায়নে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়। এআইআই ব্যাংকের অর্থায়নে আরেকটি প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। আর দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতালের জন্য ভেন্টিলেটর কেনা হবে।

আইইডিসিআরের জন্য ল্যাব সংখ্যা বাড়ানো, যানবাহন বাড়ানো, দেশের বিভাগীয় শহরে আইইডিসিআরের অফিস স্থাপন করা হবে। এই চারটি প্রকল্প বাস্তবায়নে বাজেটে আড়াই হাজার কোটি টাকা রাখা হচ্ছে। চীনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এআইআই ব্যাংক দুই ধাপে ২০ কোটি ডলার ঋণ দেবে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনার কথা জানান অর্থমন্ত্রী।

মুস্তফা কামাল বলেন, “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বছরে ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে পারে না। কিন্তু তাদের সেখানে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলে কোনো লাভ হবে না। এজন্য ব্যয়ের সক্ষমতা আগে বাড়াতে হবে।”

এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, “দেখতেই পারছেন কোভিড-১৯ সবকিছু ওলটপালট-তছনছ করে দিচ্ছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বই আজ গভীর সঙ্কটে। এই সঙ্কট মোকাবেলা করা চ্যালেঞ্জিং। আর সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই হবে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য।” তথ্য সহায়তা বিডিনিউজ।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading