সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অপসারণ চাইলেন বিএনপি’র এমপি হারুন
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার ২৩ জুন ২০২০ । আপডেট ১৭:০০
চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাসহ কোভিড-১৯ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের অপসারণ দাবি করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন।
এদিন জাতীয় সংসদে মুজিব কোট পরে আসেন বিএনপি দলীয় এমপি হারুনুর রশীদ। আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজিকে ফোন করে মেসেজ দিয়ে সাড়া পাওয়া যায় না। ওই অফিসের পিএস, পিএ, পরিচালক কেউই ফোন ধরেন না। চীনা বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের করোনা ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতর একটি বিকলাঙ্গ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এগুলো পরিবর্তন করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দিন। তাদের সরিয়ে দিয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য উপযুক্ত ও প্রতিশ্রুতিশীল ব্যক্তিদের সেখানে বসাতে হবে।’
করোনা চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘বিএমএ আওয়ামী লীগের একটি প্রতিষ্ঠান। তারা বলেছেন, ‘করোনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দায় মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরের।’ এটা বাস্তব কথা। করোনার এই দুঃসময়ে কিট বা করোনার সামগ্রী, কোভিড হাসপাতালে চিৎিসকদের কী দুরবস্থা। রোগীরা কী অবস্থায় আছেন। কোনও খবর নেই।’
হারুন বলেন, ‘এই করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা আমাদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ। দেশে এখন জাতীয় যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐক্য দরকার। আর ঐকমত্য প্রশ্নে যে ক্ষতগুলো সৃষ্টি হয়েছে, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে হাজার হাজার মামলা হয়েছে, তা প্রত্যাহার করে নিতে হবে।’
অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের রাজনীতির চিন্তাভাবনা বাদ দিতে হবে। দেশ বাচাঁও, মানুষ বাঁচাও-এর রাজনীতি করতে হবে। উন্নয়নে ব্যয় কমাতে হবে। প্রয়োজনে মন্ত্রিপরিষদের আকার ছোট করতে হবে। এর মাধ্যমে ব্যয় কমিয়ে মানুষকে বাঁচানোর পদক্ষেপ নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে অগ্রসর হতে হবে।’
তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনাসহ সামাজিক বেষ্টনী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়গুলোর ব্যয় বাড়ানোর দাবি করেন।
এর আগে ইন্নানিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজিউন—পড়ে এমপি হারুন বাজেট বক্তব্য শুরু করলে সংসদে সভাপতির দায়িত্বে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া এটা দিয়ে শুরুর কারণ জানতে চান। ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘এটা দিয়ে বক্তব্য শুরুর রেওয়াজ আমি আমার সাত টার্মে এমপিদের মধ্যে দেখিনি।’ অবশ্য হারুনুর রশীদ এমপি পরে এর ব্যাখ্যা করার প্রতিশ্রুতি দেন।

