মাস্ক না পরলে জরিমানা দিতে হবে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টকে!
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার ২৪ জুন ২০২০ । আপডেট ০৩:৫১
করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাস মোকাবেলায় মাস্ক না পরলে প্রেসিডেন্টকেও মাফ নেই। এমনটাই ঘটেছে ব্রাজিলে। সেদেশের এক বিচারক স্মরণ করিয়ে দিয়েন, ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়’। সেটি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো’র ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। খবর বিবিসি’র।
ব্রাজিলের ট্রাম্প খ্যাত এই প্রেসিডেন্ট ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছেন করোনাভাইরাস মহামারীকে গুরুত্ব না দেওয়ার জন্য।
বিবিসি জানায়, ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়াসহ আশেপাশের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট এলাকায় জনসমাগমস্থলে প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোকে মুখে মাস্ক পরার নির্দেশ দিয়েছেন সেদেশের ফেডারেল বিচারক রেনাটো বোরেলি।
নিয়ম ভঙ্গ করলে প্রেসিডেন্টেকে জরিমানা গুনতে হবে।
সোমবার (২২ জুন) দেওয়া এ আদেশে বলা হয়েছে, “ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টকে কোভিড-১৯ সংক্রমণ এড়াতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তার নিজের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি আশেপাশের অন্যান্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যও এটি প্রয়োজন।”
প্রেসিডেন্ট নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে দৈনিক ২ হাজার রিয়েল জরিমানা দিতে হবে। একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও।
করোনাভাইরাস সঙ্কটের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পদক্ষেপের চেয়ে ব্রাজিলের অর্থনীতি সুরক্ষায় জোর দেওয়া নিয়ে রাজ্য গভর্নরদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন বোলসোনারো। ‘কিছু লোক মারা যাবে এটিই জীবন। এজন্য কারখানা বন্ধ করা যায় না’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
এপ্রিলে বোলসোনারোকে একবার কাশতে কাশতেও হাজির হতে দেখা যায় লকডাউন-বিরোধী বিক্ষোভে। মুখে কোনো মাস্ক না পরে, হাতে গ্লাভস না পরেই বিক্ষোভ-সমাবেশে হাজির হন তিনি।
এখন ফেডারেল বিচারক রেনাটো বোরেলির আদেশের কারণে ফেস মাস্ক পরে জনসমাগমস্থলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবমতে, বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ব্রাজিলে এখন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মারা গেছে ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষ।
ব্রাজিলের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্টে জনসম্মুখে মাস্ক পরার নিয়ম চালু হয়েছে ৩০ এপ্রিলেই। সব জনসমাগম স্থানসহ গণপরিবহন, দোকানপাট, এবং শিল্প-বাণিজ্য এলাকাগুলোতেও নাক-মুখ ঢেকে রাখার নিয়ম চালু করেছেন ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট এর গভর্নর।
গত ১১ মে তে এ নিয়মভঙ্গকারীদের জন্য দৈনিক ২ হাজার রিয়েল জরিমানার বিধান করে আইনটিকে আরো কঠোর করা হয়।

