তুরস্কে খাশোগি হত্যার বিচার শুরু : অভিযোগের তীর সৌদি যুবরাজ সালমানের দিকে
উত্তরদক্ষিণ । ০৩ জুলাই ২০২০ । শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০ । ১২:৫০
বহুল আলোচিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকান্ডের বিচার শুরু হয়েছে তুরস্কে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ২০ সৌদি কর্মকর্তা। তাদের অনুপস্থিতিতেই ইস্তাম্বুলের আদালতে শুক্রবার (০৩ জুলাই) এই বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সেখানে অভিযোগের তীর সৌদি যুবরাজ মোহম্মাদ বিন সালমানের দিকে। যুবরাজের নির্দেশে ওই হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। খবর বিবিসি ও আলজাজিরা’র।
ইস্তাম্বুলের সৌদি কনসুলেটে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে জামাল খাশোগি খুন হন।
জামাল খাশোগি সৌদি যুবরাজের কঠোর সমালোচকদের একজন ছিলেন। সৌদি সাংবাদিক খাশোগি আমেরিকায় বসবাস করতেন। তিনি ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় কাজ করতেন।

ইস্তাম্বুলের কৌসুঁলিরা খাশোগিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ২ সাবেক সহযোগী সহ আরও ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ পেশ করেছে।
খাশোগির হত্যাকাণ্ডে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড়ে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভাবমূর্তি ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও পশ্চিমা সরকারগুলোর অভিযোগের আঙ্গুল যুবারাজের দিকে। এই খুনের আদেশ স্বয়ং যুবরাজ মোহাম্মদ দিয়েছেন বলে তাদের বিশ্বাস।
এই হত্যাকাণ্ড এবং এর বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী নিন্দা প্রিন্স সালমানের ভাবমূর্তিকে সম্পূর্ণভাবে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ এবং কিছু পশ্চিমা দেশ বিশ্বাস করে যে, সৌদি যুবরাজ মহম্মাদ বিন সালমান-ই খাশোগিকে হত্যাকাণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন।
খাশোগি হত্যাকান্ডে যুবরাজের কোনো ভূমিকা নেই বলে বরাবরই দাবি করে আসছেন সৌদি কর্মকর্তারা।
খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে সৌদি সরকারও আলাদা একটি বিচারকার্য চালিয়েছে যাকে অসম্পূর্ণ বলে সমালোচনা রয়েছে।

২০১৮ সালের ২ অক্টোবর দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে যান সাংবাদিক খাশোগি। সেখান থেকে তিনি আর বের হননি। পরে জানা যায় তাকে কনস্যুলেটের ভেতর নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তার মৃতদেহ টুকরা টুকরা করে কনস্যুলেট ভবন থেকে সরিয়ে ফেলা হয় বলে খবর পাওয়া যায়। তবে খাশোগির দেহাবশেষ আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তাদের বিচারের মধ্য দিয়ে খাশুগজির মৃতদেহ কোথায় সে সম্পর্কে নতুন তথ্যপ্রমাণ বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তার বাগদত্তা হাতিস চেঙ্গিস যিনি তুরস্কের নাগরিক।
ইস্তাম্বুলের এই মামলায় তুর্কী সরকারি কৌঁসুলিরা অভিযোগ করছেন সৌদি গোয়েন্দা বিভাগের উপপ্রধান এবং রাজদরবারের গণমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা সৌদ আল-কাহ্তানি মি. খাসোগজির হত্যার পরিকল্পনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং একটি সৌদি খুনি দলকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
মামলার বাকি ১৮ জন আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে যে এরা শ্বাসরোধ করে খাশোগিকে হত্যা করেছে।

সৌদি সাংবাদিকের মরদেহ এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তুর্কী কর্মকর্তারা বলছেন, তার দেহটিকে খণ্ড-বিখণ্ড করা হয় এবং অজানা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তুর্কি নাগরিক হাতিস চেংগিসকে বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে জন্য খাশগি ইস্তাম্বুলের সৌদি কনসুলেটে গিয়েছিলেন। তখন তাকে নির্মম ভাবে কন্স্যুলেটের মধ্যে হত্যা করা হয়।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, খাশোগির বাগদত্তা হাতিস চেংগিস এবং বিচারবহির্ভূত হত্যা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার অ্যাগনেস কালামার্ড বিচার চলার সময় উপস্থিত রয়েছেন।

সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রথমদিকে এই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছিল। পরে তারা স্বীকার করে যে এটা একদল সৌদি দুর্বৃত্তের কাজ।
মি. খাশোগি হত্যার ওপর সৌদি আরবে যে বিচার হয়েছে, তাতে আদালত গত ডিসেম্বর মাসে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এবং তিনজনের জেল হয়েছে। ওই বিচারকার্য হয়েছে অতি গোপনীয়ভাবে এবং আসামীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

