ইন্ডিয়ায় সাপের কামড়ে ২০ বছরে ১২ লাখ মানুষের মৃত্যু

ইন্ডিয়ায় সাপের কামড়ে ২০ বছরে ১২ লাখ মানুষের মৃত্যু

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০ । আপডেট ২০:৪৫

ইন্ডিয়ায় গত ২০ বছরে ১২ লাখ মানুষ সাপের কামড়ে মারা গেছে বলে নতুন এক গবেষণার ফলাফলে জানা গেছে। জরিপে বলা হয়েছে, সাপের কামড়ে মৃতের প্রায় অর্ধেকের বয়স ৩০ থেকে ৬৯এর মধ্যে এবং এক চতুর্থাংশ শিশু। খবর বিবিসির।

গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্ডিয়ায় সর্পদংশনে বেশির ভাগ মানুষ মারা যায় কোবরা (ভারতীয় গোখরা), রাসেলস ভাইপার এবং ক্রেইৎস (কালাচ) প্রজাতির সাপের কামড়ে। বাকি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে অন্যান্য অন্তত ১২টি বিভিন্ন প্রজাতির সাপের কামড়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাপের কামড়ে মৃত্যু হয় সেসব এলাকায়, যেখানে দ্রুত চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায় না।

বর্ষাকালে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই সময় সাপ বাইরে বেরিয়ে আসে বেশি। আর সাপ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কামড় দেয় পায়ে।

ই-লাইফ নামে একটি জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণাটি চালিয়েছিলেন যৌথভাবে ইন্ডিয়ান ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। ইন্ডিয়ায় অসময়ে মৃত্যুর ওপর চালানো মিলিয়ন ডেথ টাডি নামে বিশাল এক জরিপ থেকেও তথ্য নেয়া হয়েছে ওই গবেষণার কাজে।

রাসেলস ভাইপার ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ায় খুবই বিষধর প্রজাতির সাপ। এই অঞ্চলে এই সাপ দেখা যায় খুবই বেশি। এরা সাধারণত ইঁদুর জাতীয় প্রাণী খায়। কাজেই শহরাঞ্চলে এবং গ্রামেও মানুষের বাসার আশেপাশেই তাদের ঘোরাফেরা বেশি।

ইন্ডিয়ায় ক্রেইৎ সাপ সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায় না। কিন্তু রাতের বেলা তারা হিংস্র হয়ে ওঠে। এই সাপ দৈর্ঘে প্রায় ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। ইন্ডিয়ায় কোবরা বা গোখরা সাপ সাধারণত কামড়ায় অন্ধকারের পর। গোখরার কামড়ে শরীরের ভেতর রক্তক্ষরণ হয়। ফলে এই সাপ কামড়ালে সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন।

ওই জরিপে আরও দেখা গেছে, ২০০১ সালে থেকে ২০১৪ পর্যন্ত, সাপের কামড়ে মারা যাবার ৭০% ঘটনা ঘটেছে ইন্ডিয়ার ৮টি রাজ্যে- বিহার, ঝাড়খণ্ড, মধ্য প্রদেশ, ওড়িশা,উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশ, রাজস্থান এবং গুজরাটে।

বলা হয়, ইন্ডিয়ায় মানুষের ৭০ বছর বয়স পুরো হবার আগে সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রতি ২৫০ জনে একজনের। কিন্তু নতুন এই জরিপে বলা হচ্ছে, কোনও কোনও এলাকায় এই ঝুঁকি এখন বেড়ে প্রতি ১০০ জনে একজন হয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন গ্রামে কৃষক সম্প্রদায়ের মানুষ। তারা বর্ষা মওসুমে সর্প দংশনের বড় ঝুঁকিতে থাকেন।

বিশ্বে সাপ কামড়ানোর খতিয়ান
৫৪ লাখ মানুষ (আনুমানিক) প্রতিবছর সাপের কামড়ের শিকার হয়
১ লাখ মানুষ প্রতিবছর সাপের কামড়ে মারা যায়
৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ে পঙ্গু বা অঙ্গবিকৃতির শিকার হয়
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ২০১৯

কী করা সম্ভব?
গবেষকরা বলছেন, এসব এলাকায় “সচেতনতা বাড়ানো, শিক্ষা এবং কিছু সহজ পদ্ধতি শেখানোর” কর্মসূচি নেয়া উচিত। তাদের “সাপ থেকে নিরাপদ” থেকে কৃষিকাজ করার সহজ কিছু পদ্ধতি শেখানো সম্ভব, যেখানে তারা রবারের তৈরি বুট পরে মাঠে যেতে পারেন, হাতে গ্লাভস পরতে পারেন কৃষিকাজের সময় এবং ঝুঁকি কমাতে হাতে টর্চ রাখতে পারেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সাপের কামড়ের বিষয়টিকে এখন তারা “বিশ্ব স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার” দিচ্ছে। সংস্থাটি বলছে, সাপের দংশন থেকে যেসব জটিলতা তৈরি হয়, তা বিচার করলে দেখা যায় সাপে কামড়ানোর বিষয়টি ট্রপিকাল এলাকার রোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উপেক্ষিত একটি স্বাস্থ্য ঝুঁকি।

প্রতি বছর পৃথিবীতে ৮১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ সাপের কামড়ে মারা যায়। প্রায় তিনগুণ মানুষ প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু সাপের কামড় থেকে স্থায়ীভাবে তারা নানা কারণে পঙ্গু হয়ে যান। সূত্র: বিবিসি।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading