সাবাস সারোয়ার আলম
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০ । আপডেট ২১:৪০
সৈয়দ আবদাল আহমেদ: সাবাস RAB এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। আপনার অভিযানে অসৎ ব্যবসায়ী ও দুর্নীতিবাজ প্রতারকদের মুখোশ উন্মোচিত হচ্ছে। সাবাস রোকন উদ দৌলা। এর আগে আপনি ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে ভেজাল উদঘাটন করে একইভাবে অসাধু চক্রের মুখোশ খুলে দিয়েছিলেন। সাবাস অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলাকেও। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত খাদ্যে ভেজালের ওপর অসংখ্য অনুসন্ধানি রিপোর্ট প্রকাশ করার জন্যে।
অর্থের জন্য আমরা যে কতটা নিচে নামতে পারি, রিজেন্ট হাসপাতালে গত ৬ জুলাইয়ে Rab এর ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের অভিযান চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। রিজেন্ট গ্রুপের দুটি হাসপাতালে করোনার নমুনা নিয়ে ভুয়া রিপোর্ট দেয়া হতো। বিনামূল্যের কথা বলে মোটা অংকের টাকা নেয়া হতো। প্রতারণার মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকেও টাকা আদায়ে বিল দেয়া হয়েছে। টাকার অংক কয়েক কোটি।
শুধু তাই নয়, ২০১৪ সালের পর হাসপাতালের কোনো লাইসেন্সই নবায়ন নেই। করোনা সংক্রমণের নমুনা পরীক্ষার নামে কোভিড-১৯ এর ভুয়া সনদ দেয়া হয়েছে শত শত মানুষকে। করোনা পরীক্ষার যেসব কিট উদ্ধার হয় তাও মেয়াদোত্তীর্ণ, ভেজাল। RAB জানিয়েছে, রিজেন্ট হাসপাতাল ১০ হাজার রোগীর নমুনা সংগ্রহ করেছে। কিন্তু পরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্ট দিয়েছে। তাদের হাতে এমন ৪,৫০০ ভুয়া রিপোর্ট প্রমাণ হিসেবে আছে। তাছাড়া প্রতারক সাহেদ গত তিন মাসে আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
খবর হয়েছে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম নামের অসাধু লোকটির নানা প্রতারণার জঘন্যসব কাহিনি।
তিনি ওয়েবসাইটে বাণীতে লিখেছেন, মানবসেবা, ভোক্তাদের সন্তষ্টি অর্জন এবং দেশ ও দশের উন্নয়নই নাকি তার ও প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য। Rab এর ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম সাহেব সেসব ‘মহতি’ কর্মকাণ্ড উদঘাটন করে হাসপাতালে তালা মেরে সিলগালা করে দিয়েছেন।
আবারও অভিনন্দন আপনাকে জনাব সারোয়ার আলম। এর আগেও আপনি বহু অভিযান পরিচালনা করেছেন। খাবারে ভেজাল, দুধে ভেজাল, ফলমূলে ভেজাল, ওষুধে ভেজাল, হাসপাতাল-ক্লিনিকে চিকিৎসায় ভেজাল কত কি!
এরআগে একই অভিযান পরিচালনা করে সুনাম কুড়িয়ে ছিলেন রোকন উদ দৌলা সাহেব। এক পর্যায়ে স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে একজোট হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘদিন এ অভিযান বন্ধ ছিল। আবারও শুরু হয়েছে।
সাংবাদিক হিসেবে আমার খুব ভালো লাগছে যে, একসময় অর্থাৎ ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সময়ে একই কাজ আমি করেছি। তবে আমি করেছি অনুসন্ধানী রিপোর্ট দৈনিক বাংলায়। আমার সাথে পুলিশ বা আইনশৃংখলা বাহিনির সদস্যরা ছিল না। ভেজাল উদঘাটন করতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। পরীক্ষার ল্যাব ব্যবহার করতে হয়েছে। কিছু রিপোর্টের শিরোনাম মনে আছে– পচা ডিম কোথায় যায়, নকলের ঠেলায় আসল উধাও, হোটেল রেস্তোরায় কী খাচ্ছেন, মিষ্টি তৈরির অন্তরালে, সাবান তৈরির উপকরণ দিয়ে খাবার তেল, রঙিন খাবারে ভুলবেন না, হালিম তৈরির নেপথ্যে, গুঁড়া দুধ দিয়ে তৈরি হয় মিষ্টি তৈরির ছানা, কারবাইড দিয়ে যেভাবে পাকানো হয় ফলমূল, দুধে ভেজালের নেপথ্যে, সসের নামে যা খাই, ড্রাই ফুডে ভেজাল, দই নম্বর বেকারিতে যা হয়, হাসপাতালের রোগজীবাণু বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে ইত্যাদি।
এসব রিপোর্ট করতে গিয়ে আমাকে গণস্বাস্থ্যের ল্যাবরেটরি, সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও এসজিএস এবং আমার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় রসায়ন ল্যাবের সহযোগিতা নেয়া হয়েছে। এসব রিপোর্টের জন্যে সম্মানজনক ফিলিপস পুরস্কার, এসকাপ/এফইজিবি পুরস্কারও পেয়েছি। তৎকালীন সরকার কিছুটা ব্যবস্থাও নিয়েছিল।
এখনও যেমন অভিযান হচ্ছে। কিন্তু কিছুদিন থেমে এই অসাধু ব্যবসা আবার শুরু হয়ে যায়। এটাই দুঃখজনক। সাধারণ নাগরিকরা কত অসহায়! অথচ প্রতারকরা টাকার পাহাড় বানিয়ে নিচ্ছে। এ থেকে কীভাবে মুক্তি- একমাত্র আল্লাহই জানেন! (ফেইসবুক থেকে নেয়া)
লেখক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক।

