পুলিশের অভিযানের পর মা-মেয়ে হাসপাতালে, ছেলে ‘লাশ’!

পুলিশের অভিযানের পর মা-মেয়ে হাসপাতালে, ছেলে ‘লাশ’!

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২০ । আপডেট: ১৩:২৫

চট্টগ্রামে রাতে সাদা পোশাকে পুলিশের অভিযানের সময় ‘ধস্তাধস্তিতে’ মা-মেয়ে আহত হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর বাসা থেকে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মৃত সালমান ইসলাম মারুফ স্থানীয় একটি স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র। ডবলমুরিং থানার বাদামতলীর বড় মসজিদ গলিতে তাদের বাসা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বড় মসজিদ গলিতে এই ঘটনার পর স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে সাদা পোশাকে অভিযানে যাওয়া ডবলমুরিং থানার এসআই হেলাল উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মৃতের স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য, এসআই হেলাল দুই সোর্সকে সঙ্গে নিয়ে মারুফকে মারধর করে, তার কাছ থেকে টাকা দাবি করে এবং তাকে আটকের চেষ্টা করে। তখন তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দেয়। ধস্তাধস্তিতে তার বোন আহত হলে তাকে মাসহ হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর গভীর রাতে বাসা থেকে মারুফের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

কী অভিযোগে ওই কিশোরকে আটকে অভিযান চালানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল কিনা সেবিষয়ে পুলিশের কোনো ভাষ্য পাওয়া যায়নি। তবে এসআই হেলাল কী অভিযোগে সেখানে অভিযানে গিয়েছিলেন তা ‘তদন্তসাপেক্ষ’ বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) ফারুক উল হক।

পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) ফারুক জানান, পুলিশ মারুফকে নিয়ে আসার চেষ্টা করলে তার দুই বোন ও মা পুলিশের কাছ থেকে মারুফকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। দুই পক্ষের টানাহেঁচড়ার মধ্যে মারুফের এক বোন মাটিতে পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। এসময় পুলিশ চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তার মাকেও যেতে বলে। মা ও বোনকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে গেছে মনে করে বাসায় ঢুকে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে মারুফ। তিনি আরও জানান, ঘটনা তদন্তে সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) ও ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading