সদরঘাট থেকে ইন্ডিয়ান নারী জঙ্গী গ্রেফতার

সদরঘাট থেকে ইন্ডিয়ান নারী জঙ্গী গ্রেফতার

উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২০ । আপডেট : ০৯:২০

রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে এক ইন্ডিয়ান নারী জঙ্গীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

জানা গেছে, ওই নারীর নাম আয়েশা জান্নাত মোহনা ওরফে জান্নাতুল তাসনিম ওরফে প্রজ্ঞা দেবনাথ (২৫)। তিনি ইন্ডিয়ান নাগরিক এবং বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্য।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ইমরান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, তার থেকে ইন্ডিয়ান পাসপোর্ট, বাংলাদেশের জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট, বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র ও দুইটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি কেরানীগঞ্জে একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন। শিক্ষকতার আড়ালে তিনি অনলাইনে জঙ্গি কার্যক্রমে নারীদের সুপারিশ করা করতেন।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ইমরান হোসেন বলেন, সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী এই নারী অনলাইনে জেএমবির কর্মকাণ্ডে আকৃষ্ট হয়ে ধর্মান্তরিত হন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গোপনে বিভিন্ন মাদরাসায় শিক্ষকতার কাজ করছিলেন। তার বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার ধনিয়াখালি থানার পশ্চিম কেশবপুর গ্রামে। ২০০৯ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় সে হিন্দু সনাতন ধর্ম থেকে মুসলিম ধর্মে দীক্ষিত হয়। এরপর থেকে সে ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশুনায় আগ্রহী হয়ে ওঠে।

তিনি আরো বলেন, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি মতিঝিল এলাকা থেকে জেএমবির নারী শাখার প্রধান আসমাকে গ্রেফতার করে সিটিটিসি। আসমার সঙ্গে আয়েশার প্রথম পরিচয় হয়। আসমা গ্রেফতার হলে নব জেএমবি’র নারী শাখার দায়িত্ব নেন আয়েশা। আয়েশা আত্মগোপনে থেকে অনলাইনে নারী ও পুরুষ সদস্যদের রিক্রুটের কাজ করছিলেন। তার কাছে দেশ-বিদেশ থেকে নব্য জেএমবি’র ফান্ডে টাকা আসত। ওই টাকা তিনি নারী সদস্যদের মোটিভেশন এবং সুপারিশ করার পেছনে ব্যয় করতেন।

এরইমধ্যে সে বাংলাদেশের নাগরিক ওমান প্রবাসী আমির হোসেন সাদ্দামকে মুঠোফোনের মাধ্যমে বিয়ে করে। আমিরের পরামর্শে ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য চলে আসে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি কেরানীগঞ্জ থেকে একটি জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করেন।

ওই জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়ে তিনি একটি ভুয়া এনআইডি কার্ড তৈরি করেন। সে ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকত। ওই এলাকার বিভিন্ন মাদরাসায় পরিচয় গোপন করে শিক্ষকতা করতেন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading