মধুপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার মূল হোতা গ্রেফতার

মধুপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার মূল হোতা গ্রেফতার

মো: আ: হামিদ । উত্তরদক্ষিণ
মধুপুর, টাঙ্গাইল; সোমবার, ২০ জুলাই ২০২০ । আপডেট: ০৯:৫০

টাঙ্গাইলের মধুপুরে একই পরিবারের চার জনকে গলাকেটে হত্যার মূল হোতা সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এ সময় তার নিকট থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে টাঙ্গাইল র‌্যাব-১২ জানায়, টাঙ্গাইলের মধুপুরে দুই সন্তানসহ বাবা-মা’কে গলাকেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকে র‌্যাব-১২ এর টাঙ্গাইল ইউনিট সকল প্রকার গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। পরে আজ সকালে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি উপজেলার ব্রাহ্মণবাড়ি এলাকার মো: মগবর আলীর ছেলে মোঃ সাগর আলীকে (২৭) নিজ বসতবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাকে জিজ্ঞেসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের সত্যতা স্বীকার করে জানায়, ভুক্তভোগী আব্দুল গনি সুদের ব্যবসা করতো। আসামি সাগর আলীর সাথে পূর্বেথেকেই তার সুদের লেনদেন ছিলো। আসামি বেশ কয়েকবার সুদের টাকা দিতে ব্যর্থ হয়। গত মঙ্গলবার আব্দুল গনির কাছে পুনরায় দুইশত টাকার জন্য গেলে তাকে অনেক বকাঝকা করে তাড়িয়ে দেয়া হয়।

এতে সাগর অপমান বোধ করলে তার অপর এক সহযোগীকে নিয়ে হত্যা এবং টাকা পয়সা ও সম্পদ লুণ্ঠনের পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সাগর তার সহযোগীকে নিয়ে গত বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ভুক্তভোগী গনির বাসায় যায়। যাওয়ার পূর্বে সাগরের সহোযোগী বাজার থেকে চেতনানাশক নিয়ে যায়। আসামি গনি মিয়ার পূর্বপরিচিত হওয়ায় খুব স্বাভাবিকভাবে বাসায় ঢোকার অনুমতি পায়।

আকস্মিকভাবে চেতনানাশক ব্যবহার করে গনিকে অচেতন করে। পরিবারের সবাই তখন ঘুমে থাকায় অচেতন করতে সহজতর হয়। সবাইকে ঠাণ্ডা মাথায় ভুক্তভোগীর বাসায় ব্যবহৃত কুড়াল ও আসামিদের ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রত্যেককে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। গৃহত্যাগ করার পূর্বে বাসার মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায় এবং যাওয়ার আগে বাসার বাহির থেকে তালা মেরে দেয়।

আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পরবর্তীতে আসামির বোনের বাড়ি, উপজেলার ব্রাহ্মণবাড়ি (মজিদ চালা), থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকু ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়। অপর সহযোগীকে গ্রেফতার করতে টাঙ্গাইল র‌্যাব এর অভিযান চলমান রয়েছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading